Food Price: খাদ্যপণ্যের দাম ৬ মাসে সর্বোচ্চ, আরও মাসখানেক যুদ্ধ চললে কী হবে? অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরোরো বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হল তেলের দাম। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত খাদ্য ব্যবস্থার ওপর গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।'

Advertisement
খাদ্যপণ্যের দাম ৬ মাসে সর্বোচ্চ, আরও মাসখানেক যুদ্ধ চললে কী হবে? অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তাবিশ্বের সর্বোচ্চ খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি
হাইলাইটস
  • আগামী মাসগুলিতে পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হবে
  • গম ও ভুট্টার দাম বেড়েছে
  • দ্য ইকোনমিস্ট সতর্ক করেছে

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভারত সহ বিশ্বের একটি বড় অংশই ঝেলছে। ভারতে ইতিমধ্যেই এলিপিজি গ্যাসের সঙ্কট চলছে। কমার্সিয়াল সিলিন্ডার পাচ্ছেন না বহু ব্যবসায়ী। বেশি দাম দিয়ে কিনতে নাজেহাল হচ্ছেন। অন্যদিকে অশোধিত তেলের সঙ্কটের মেঘও ভারতের আকাশে। যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামেও। এরই মধ্যে আশঙ্কার খবর হল, বিশ্বের মুদ্রাস্ফীতি বা জিনিসের দাম বৃদ্ধির হার ৬ মাসে সর্বোচ্চ হয়ে গেল।

আগামী মাসগুলিতে পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হবে

মার্চ মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর ফলে আগামী মাসগুলিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ এবং বিলের অবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এফএও-এর মতে, টানা দ্বিতীয় মাস আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, যা বিশ্বখাতে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির চাপ নির্দেশ করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের একটি মানদণ্ড এফএও খাদ্য মূল্য সূচক মার্চ মাসে গড়ে ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪% এবং বার্ষিক ১% বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য, বিশেষত পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে, যা উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরোরো বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হল তেলের দাম। তিনি সতর্ক করে বলেন, 'দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত খাদ্য ব্যবস্থার ওপর গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।'

খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণগুলির মধ্যে, অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে জৈব জ্বালানির চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা আবার ভোজ্য তেলের মতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। সারের উপর এর প্রভাব একটি বড় উদ্বেগের বিষয়, যা কৃষকদের বীজ বপন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

গম ও ভুট্টার দাম বেড়েছে

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানত সারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে গমের দাম ৪.৩% বেড়েছে, অন্যদিকে ইথানলের প্রবল চাহিদার কারণে ভুট্টার দাম বেড়েছে। মাসিক ভিত্তিতে ভোজ্য তেলের দাম সবচেয়ে বেশি ৫.১% বেড়েছে। এছাড়াও, অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জৈব জ্বালানির চাহিদার কারণে বার্ষিক ভিত্তিতে এর দাম ১৩.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। মাংসের দাম ১%, দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১.২% এবং চিনির দাম ৭.২% বেড়েছে।

Advertisement

দ্য ইকোনমিস্ট সতর্ক করেছে

এফএও খাদ্য সরবরাহের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ৮২০ মিলিয়ন টন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১.৭% কম। অর্থনীতিবিদ টোরোরো আরও সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে এর প্রকৃত প্রভাব পরে অনুভূত হতে পারে। তিনি বলেন, কৃষকরা সারের ব্যবহার কমাতে, ফসলের উত্‍পাদন কমাতে, অথবা কম খরচের ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এই সিদ্ধান্তগুলি আগামী মাসগুলিতে ফলন কমিয়ে দিতে এবং সরবরাহ সীমিত করতে পারে। টোরোরো মনে করেন, খাদ্যপণ্যের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক নয়, কিন্তু এই ক্ষেত্রগুলোতে অব্যাহত চাপ বিশ্বব্যাপী খাদ্যমূল্যের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।  

POST A COMMENT
Advertisement