প্রতীকী ছবিমধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে প্রভাব পড়ছে, তার ঢেউ এবার এসে পৌঁছেছে একেবারে দৈনন্দিন জীবনের একটি অপ্রত্যাশিত জায়গায়, কনডম বাজারে। ‘বাটারফ্লাই এফেক্ট’ বা প্রজাপতি প্রভাবের বাস্তব উদাহরণ যেন এই ঘটনাই।
চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তেলের দাম, পরিবহণ খরচ এবং পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কনডম উৎপাদন শিল্পে। ভারতে এই শিল্পের আকার ৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি, যেখানে HLL Lifecare, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সমস্যার মূল কারণ চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং কাঁচামালের সংকট। কনডম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সিলিকন তেল, অ্যামোনিয়া, পিভিসি এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, সবই পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই কাঁচামালগুলির জোগান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে পরিবহণে বিলম্ব হওয়ায় কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে পারছে না।
ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে দ্রুত। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামোনিয়ার দাম ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, আর সামগ্রিকভাবে কনডমের দামও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, জ্বালানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে দেশের পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে কাঁচামাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে কনডম উৎপাদন আরও সংকটে পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি শুধু ব্যবসায়িক সমস্যা নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। কনডম পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাম বেড়ে গেলে বা সরবরাহ কমে গেলে এর ব্যবহার কমতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে।