অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যমধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। রণক্ষেত্রের ময়দান হয়ে উঠেছে ইরান। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পরও এতটুকু জমি ছাড়তে নারাজ তেহরান। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় আমেরিকার বড় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও তা মানতে নারাজ ওয়াশিংটন। তারপরেও টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে উভয় পক্ষই। একদিকে ইরান আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্রে মার্কিন সেনাঘাঁটি ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও আমেরিকা টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের উপর। সব মিলিয়ে ভয়াবহ দিকে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাগত অবনতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী মঙ্গলবার বিকেলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গেও কথা বলেছেন। উভয় ফোনালাপের সময়, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দেশে হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি জারি করল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়ানো এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে, পবিত্র রমজান মাসে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ধারাবাহিকভাবে অবনতি ঘটেছে। সংঘাত নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংস ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, একই সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে বাস করেন এবং কর্মরত। স্পষ্টভাবে দ্রুত সংঘাতের অবসানের পক্ষে বলে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে ভারত।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স হ্যান্ডলে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় নিগত স্কুলের শিশুদের গণকবরের একটি ছবি শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, 'এভাবেই মিস্টার ট্রাম্প দেশ উদ্ধারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাস্তবে তা কেমন দেখতে লাগে, তা দেখালেন।' তিনি এই ছবি ও পোস্টের মাধ্যমে ওই বিধ্বংসী হামলার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্দোষ শিশুর বলি বৃথা যাবে না বলেও অঙ্গীকার করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
ইরান ইস্যুতে বিবৃতি IMF-র। তাদের তরফে জানানো হল, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির তারা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। এখন পর্যন্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপে বিঘ্ন, জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আর্থিক বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এখনও অঞ্চল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর সামগ্রিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা মূল্যায়ন করার জন্য সময় খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
রয়টার্স সূত্রে খবর, ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর এগনোর সঙ্গে সঙ্গে লেবাননের সেনাবাহিনী সীমান্ত বরাবর প্রায় সাতটি পজিশন থেকে পিছিয়ে এসেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমেরিকার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকার ইরানের উপর হামলার ক্ষেত্রে স্টার্মারের ভূমিকা হতাশাজনক। ট্রাম্প বলেন, 'ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন বাহিনীকে এই অভিযানে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেননি, যা তার মতে দুই দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্কের পরিপন্থী।' তিনি মন্তব্য করেন, 'উনি সহায়ক ছিলেন না। আমি কখনও ভাবিনি ব্রিটেন থেকে এমন অসহযোগিতা পাব।' ট্রাম্প আরও বলেন, 'দেখে খুবই দুঃখ হচ্ছে যে সম্পর্কটি স্পষ্টতই আগের মতো নেই।' তাঁর এই বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রিয়াধের মার্কিন দূতাবাস সৌদি আরবে তাদের সমস্ত পরিষেবা বাতিল করার ঘোষণা করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সমস্ত রুটিন এবং জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল। বিভিন্ন মিশনে শেল্টার ইন প্লেস (নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া) নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামলার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস চত্বর এড়িয়ে চলুন। আমরা সমস্ত মার্কিন নাগরিককে নিজস্ব ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।
ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের রাস তনুরা তেল শোধনাগার। স্পষ্ট হল স্যাটেলাইট ইমেজে।


অস্ত্রের অফুরন্ত জোগান। দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধ করতে সক্ষম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুত এই মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত স্তরে নেই, এটাও মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মার্কিন মাঝারি অস্ত্রও অন্যদেশের উন্নত অস্ত্রের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী।

মঙ্গলবার সকালে লেবাননের রাজধানীতে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৈরুটের হিজবুল্লাহ কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, একটি ইজরায়েলি বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
স্যাটেলাইট ছবিতে সৌদি আরবের Ras Tanura oil Refinery–তে ক্ষতি হয়েছে বলে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের কিছু জায়গাতেও ক্ষয়ক্ষতির ছবি মিলেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক বিশ্লেষকের মতে, রাস তানুরা রিফাইনারিতে ইরানের হামলা বড় ধরনের কোনও সমস্যা হয়েছে। এর ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে লক্ষ্য করে হামলায় ইজরায়েলের Blue Sparrow মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে খবর। মাথায় রাখতে হবে যে ব্লু স্প্যারো একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটির লক্ষ্যভেদ অত্যন্ত নিখুঁত। প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে দিলে এটি সেই নির্দিষ্ট স্থানেই আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যা করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল সেনা। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী একযোগে মোদী সরকারকে নিশানা করলেন। খামেনেই হত্যায় কেন্দ্র কেন চুপ, সেই প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস।
“When the targeted killing of a foreign leader draws no clear defence of sovereignty or international law from our country, and impartiality is abandoned, it raises serious doubts about the direction and credibility of our foreign policy. Silence, in this instance, is not… pic.twitter.com/LJECs5jPHR
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) March 3, 2026
টানা দ্বিতীয় দিন এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেল। আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই বিনিয়োগকারীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার প্রভাব। বিশেষ করে জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ডলারের দামও শক্তিশালী হয়েছে।
জাপান: Nikkei 225 সূচক ৩২৭.৪৪ পয়েন্ট কমে ৫৭,৭২৯.৮০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে।
দক্ষিণ কোরিয়া: KOSPI সূচক ৭৮.৯৮ পয়েন্ট বা ১.২৬ শতাংশ কমে ৬,১৬৫.১৫ পয়েন্টে নেমে আসে বাজার খোলার সময়।
তাইওয়ান: দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক নিম্নমুখী হয়ে ৩৫,১০৬.২২ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। এদিকে বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Taiwan Semiconductor Manufacturing Company (TSMC)-এর শেয়ার শুরুতে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও পরে লেনদেনের মধ্যে সেই ঊর্ধ্বগতি কমে আসে।
হংকং: Hang Seng Index সূচক ১৩০.৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ২৬,১৯০.২৪ পয়েন্টে বাজার খোলে, যদিও সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রবণতা ছিল সতর্ক ও অস্থির।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সম্ভাব্য জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়িয়ে চলার কৌশল নিচ্ছেন, যার প্রভাব এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টায় তারা ইজরায়েল অধিকৃত প্যালেস্টাইনে অবস্থিত Ramat David Airbase-এর রাডার সাইট ও কন্ট্রোল রুম লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও জনপদে ইজরায়েলি আগ্রাসনের জবাব। ওই হামলায় বহু নারী, পুরুষ ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আরও অনেকে আহত হয়েছে, বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং নিরীহ বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানাল,ইরানের পক্ষ থেকে ছোড়া ৩৮০টিরও বেশি মানববিহীন ড্রোন এবং প্রায় ১৮০টি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রক। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, দুটি ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে।
চারদিনের মধ্যে ফের দুবাইয়ে বড় হামলা ইরানের। দুবাইয়ের একটি বড় বিল্ডিংয়ে ১৩৬টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে তেহরান। একাধিক বিস্ফোরণের ভিডিও সামনে এসেছে।
খুব শীঘ্রই ইরান বনাম ইজরায়েল, আমেরিকার যুদ্ধ শেষ হওয়ার নয়। এমনটাই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৬ মার্কিনি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আমেরিকা।
সোমবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে হামলা চালাল আমেরিকান বি-১ বোমারু বিমান। মার্কিন সেনার লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইলের ক্ষমতা দুর্বল করা। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, "আমরা ইরানের সব মিসাইল ধ্বংস করব এবং ওদের মিসাইল ইন্ডাস্ট্রি গুঁড়িয়ে দেব।"