Iran War: ইরান কি আসলে যুদ্ধে জিতে গিয়েছে? ট্রাম্পের মুখ পুড়ল? তেহরানের উত্‍সবের VIDEO VIRAL

ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগাচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে ঠিকই, তবে তা করতে হবে ইরানের বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে।

Advertisement
ইরান কি আসলে যুদ্ধে জিতে গিয়েছে? ট্রাম্পের মুখ পুড়ল? তেহরানের উত্‍সবের VIDEO VIRALইরান যুদ্ধ
হাইলাইটস
  • মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
  • আমেরিকার প্রতি চরম ‘অবিশ্বাস’ 
  • সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা

দু সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে দুই পক্ষই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ও ইরান দু সপ্তাহের জন্য একে অপরকে হামলা করবে না। ইরানে এখন কোনও হামলা চালাবে না আমেরিকা। এই যুদ্ধবিরতিকে যুদ্ধে জয় হিসেবেই দেখছে ইরানের একটি বড় অংশের মানুষ। 

তেহরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দাবি, আমেরিকা তাদের দেওয়া ১০ দফা দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হল, এখন থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে। ইরান মনে করছে, এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে তাদের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগাচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে ঠিকই, তবে তা করতে হবে ইরানের বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ট্রাম্পকে রাজি করানোর জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এই চুক্তিকে আমেরিকার জন্য একটি ‘চরম পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির অংশ হিসেবে আমেরিকা সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্তৃত্ব মেনে নিতে সম্মতি দিয়েছে।

আমেরিকার প্রতি চরম ‘অবিশ্বাস’ 

তেহরানের পক্ষ থেকে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হবে আমেরিকার প্রতি চরম ‘অবিশ্বাস’ নিয়েই। আপাতত দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে, যা দু-পক্ষের সম্মতিতে বাড়তে পারে। এই সময়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিজয়ের উৎসব পালন করা জরুরি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'যদি শত্রুর এই আত্মসমর্পণ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সাফল্যে পরিণত না হয়, তবে আমরা আবারও রণক্ষেত্রে লড়াই করব। আমাদের হাত ট্রিগারেই রয়েছে, শত্রুপক্ষ সামান্য ভুল করলেই পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়া হবে।'

Advertisement

সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা

সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনও এই সংঘাত চিরতরে মেটাতে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কিছুই চূড়ান্ত নয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই মেগা বৈঠক হতে পারে। আমেরিকার পক্ষে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ভ্যান্স তাঁর হাঙ্গেরি সফর পিছিয়ে এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। আপাতত এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।

POST A COMMENT
Advertisement