নেপালে জ্বালানির সঙ্কট জ্বালানির সঙ্কট ক্রমাগত বাড়ছে নেপালে। তার জেরে শনি ও রবিবার সরকারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হল। এতদিন পর্যন্ত কেবলমাত্র শনিবারই সরকারি দফতর ছুটি রাখা হত। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা বাড়িয়ে ২ দিন করা হল।
নেপাল সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুদিন ছুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়। দেশে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই কারণেই নতুন ব্যবস্থা। সোমবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নেপাল সরকারের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, জ্বালানি সঙ্কট কমাতে সরকারি দফতরের কাজের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে যেখানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ চলত, এখন তা এক ঘণ্টা এগিয়ে এনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে প্রশাসনিক কাজের গতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
তবে এই নতুন সময়সূচি শুধুমাত্র সরকারি দফতরের জন্য প্রযোজ্য হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। মুখপাত্র আরও জানান, শনিবার ও রবিবার এই দু’দিনই সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে, যদিও অফিসের সময়সীমা সংক্রান্ত নিয়ম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই আরও অনেক দেশের মতো জ্বালানি সঙ্কটে পড়ে যায় নেপাল। সেই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা নেপাল ওয়েল কর্পোরেশন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উড়ানের জন্য বিমান জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। কাঠমাণ্ডু, পোখরা এবং ভৈরাহাওয়া থেকে আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রায় ৮৪.৭%, ১১৬.২% এবং ১১৭.৪% পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এটি অস্থায়ী পদক্ষেপ হলেও এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে পড়তে পারে। অফিসে যাতায়াত কমানো এবং জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।