পাইলটকে উদ্ধার করল আমেরিকান সেনা সঙ্গে ছিল একটি পিস্তল, বিকন (সঙ্কেত পাঠানোর আলো) আর মনে আশা। এই তিনটি জিনিসকে সম্বল করেই ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন আমেরিকান পাইলট। ৪৮ ঘণ্টা পরে তাঁকে উদ্ধার করে সেই দেশের সেনা। উদ্ধারের সময় এত গোলাগুলি হয়েছে যে প্রাণ হারাতে পারতেন তিনি। তবে বাঁচতে বারবার জায়গা বদল করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ওই জওয়ানকে উদ্ধার করা বা তাঁর বেঁচে ফেরার ঘটনা যেন হলিউডের গল্পকেও হার মানাবে।
কীভাবে সেখানে ছিলেন সেই জওয়ান?
সেদিন বিমানটি ভূপতিত হওয়ার পরই আশঙ্কার প্রহর গুণতে শুরু করে আমেরিকার প্রশাসন। আদৌ ইরান থেকে পাইলটকে উদ্ধার করা যাবে কি না, গেলেও কীভাবে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দেয় সেই দেশের সেনা। তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে ইরানের এক ঘোষণা। সেদিনই ওই দেশ জানিয়ে দেয়, পাইলটকে জীবন্ত ধরে দিতে পারলেই পুরস্কার। অর্থাৎ চাপ বাড়তে থাকে ট্রাম্পের। কিন্তু আজ জানা যায়, যুদ্ধবিমানের ওই কর্নেল পদমর্যাদার অফিসার ইজেক্ট করার পর পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন। তিনি নিজেও লুকোনোর চেষ্টা করছিলেন। জানতেন, কোনওভাবে যদি ইরানের সেনার হাতে গ্রেফতার হন তাহলে তার পরিণতি কী হতে পারে! সেজন্য পাহাড়ের কোলে আশ্রয় নেন তিনি। তাঁর কাছে থাকা জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন দেশের সেনার সঙ্গে।
বসেছিল না ইরানের সেনাও। তারাও সেই পাইলটকে ধরার চেষ্টা করছিল। তাকে খুঁজতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। তবে তারা তেমন কোনও ইনপুট পায়নি। এমনটাও মনে করা হচ্ছে, সেই পাইলট বরং স্থানীয়দের সাহায্য পেয়েছিলেন।
দুই দেশের সেনার কাছেই সেই পাইলট একটা 'মিশন' হয়ে ওঠে। আমেরিকার লক্ষ্য ছিল পাইলটকে উদ্ধার। ইরানের জীবন্ত ধরা। সেই লক্ষ্যে দুই দেশের সেনা কাজ শুরু করে। অপারেশন সফল করার জন্য ডজনখানেক যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, সাইবার ও গোয়েন্দারা কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। এক আমেরিকান আধিকারিকের মতে, 'এটি ছিল আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও কঠিন অপারেশন।'
আমেরিকা অপারাশন শুরু করে রাতে। অন্ধকারের ফায়দা নেয় তারা। ইরানি কনভয়গুলিকে থামাতে বিমান থেকে বোমা ফেলে। তখন দুই পক্ষের তরফে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়। তবে আমেরিকার বায়ুসেনা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। অবশেষে উদ্ধার করে নেয় পাইলটকে।
এই পুরো অভিযান শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প জানান, প্রথমে ২ জন পাইলটের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা হলেও পরে আরও একজনকে তাঁরা উদ্ধার করেছেন। গোটা অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সেনা। ভোর হওয়ার আগেই জখম পাইলটকে নিয়ে ইরান ছাড়ে মার্কিন বাহিনী। সূত্রের দাবি, আলো ফোটার আগেই ইরানের ভূখণ্ডের সীমা তারা অতিক্রম করে ফেলেছিল।
অপারেশন সফল হওয়ার পর ট্রাম্প জাানান,তাঁর নির্দেশেই এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু’টি অভিযানের ক্ষেত্রেই কোনও আমেরিকানের আঘাত লাগেনি বা কেউ মারা যাননি। এই উদ্ধার অভিযানে অনেকগুলি যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রত্যেকটিতে প্রাণঘাতী অস্ত্রশস্ত্র মজুত ছিল।