স্পাই থ্রিলারের মতোই, বাস্তবেও কিন্তু বিশ্বের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নীরবে এমনই গোপন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।Top 5 Intelligence Agencies: 'ধুরন্ধর ২' বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। গুপ্তচরবৃত্তি, গোপন অভিযান আর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। টানটান চিত্রনাট্য দর্শকদের মন জিতেছে। সিনেমার পর্দায় স্পাই থ্রিলারের মতোই, বাস্তবেও কিন্তু বিশ্বের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নীরবে এমনই গোপন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতেরও এমন গোয়েন্দা সংস্থা আছে। তারা বিশ্বে কত নম্বরে? আসুন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
প্রথমেই আসে আমেরিকার Central Intelligence Agency বা CIA। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি। এই সংস্থা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বিদেশে তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাস দমন, গোপন অপারেশন; সব ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঘটনাতেই সিআইএ-র নাম জড়িয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানে ব্রিটেনের MI6 বা সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। জেমস বন্ডের গল্পে কিন্তু এই MI6 এর নাম বারবার আসে। সেই সংস্থাই বাস্তবে ব্রিটেনের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। বিশ্বের নানা প্রান্তে গোপনে কাজ করে তথ্য জোগাড় করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা এদের প্রধান দায়িত্ব।
তৃতীয় স্থানে ইজরায়েলের Mossad। অত্যন্ত দক্ষতা ও নিখুঁত পরিকল্পনার জন্য পরিচিত এই সংস্থা। সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান, অপহরণ উদ্ধার, এমনকি শত্রু দেশের ভিতরে গোপন মিশন; সব ক্ষেত্রেই মোসাদের সাফল্য নিয়ে বহু গল্প প্রচলিত।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের Research and Analysis Wing বা 'RAW'। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই সংস্থা মূলত বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে নিয়োজিত। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পজিশন বজায় রাখতে 'র'-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
পঞ্চম স্থানে রাশিয়ার Federal Security Service বা এফএসবি। সোভিয়েত আমলের কেজিবির উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত এই সংস্থা। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংস্থাগুলির কাজের বড় অংশই সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে ঘটে। সিনেমায় আমরা যেটুকু দেখি, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজ। বহু দেশপ্রেমী এই ধরনের সংস্থাগুলির জন্য কাজ করতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। 'ধুরন্ধর ২'-এর মতো সিনেমার সাফল্যে এটাই প্রমাণ যে, গোয়েন্দা জগতের প্রতি মানুষের আগ্রহ কতটা গভীর।
আসলে, প্রযুক্তির যুগে যুদ্ধের ধরন বদলালেও গোয়েন্দা তথ্যের গুরুত্ব একটুও কমেনি। বরং সাইবার নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদের প্রেক্ষাপটে এই সংস্থাগুলির ভূমিকা আরও বেড়েছে। তাই পর্দার বাইরেও, বাস্তবের এই 'স্পাই গেম' কিন্তু সমান রোমাঞ্চকর।