এবার কি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তুর্কির?Iran Israel Turkey Cyprus: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়াল তুরস্ক। ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে তুরস্ক উত্তর সাইপ্রাসে ৬টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম F-16 Fighting Falcon মোতায়েন করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সেখানে বসবাসকারী তুর্কি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তুরস্কের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই মোতায়েন করা হয়েছে Turkish Republic of Northern Cyprus অঞ্চলে, যাকে আন্তর্জাতিকভাবে সীমিত স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তুরস্ক এটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সমর্থন করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ইজরায়ের মধ্যে চলা সংঘাতের জেরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই উত্তেজনা বেড়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলেও। বিশেষ করে সাইপ্রাস দ্বীপকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি RAF আক্রাতিরিতে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন দেশ তাদের সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রীস-ও সাইপ্রাসের পাফোস এয়ারবেসে চারটি F-16 যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক দাবি করেছে, তারা NATO-র এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থার সহায়তায় একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন আসলে তুরস্কের ধাপে ধাপে তৈরি করা নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ। তুরস্ক একমাত্র দেশ যে উত্তর সাইপ্রাসের তুর্কি সাইপ্রিয়ট প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু দক্ষিণের গ্রিক সাইপ্রিয়ট সরকারকে স্বীকৃতি দেয় না।উল্লেখ্য, ৭ মার্চ থেকেই উত্তর সাইপ্রাসে F-16 পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছিল তুরস্ক। অবশেষে ৯ মার্চ সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আঙ্কারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আরও সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।