Assam Elections 2026: ৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৯ জন মহিলা, অসম ভোটে লিঙ্গ বৈষম্য চরমে

যদিও ডিলিমিটেশন বা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের পর প্রার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের স্থান দেওয়ার মানসিকতায় কোনও গুণগত পরিবর্তন আসেনি যার প্রমাণ হল ৬৬৩ জন পুরুষ প্রার্থীর বিপরীতে মহিলাদের এই নগণ্য উপস্থিতি।

Advertisement
৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৯ জন মহিলা, অসম ভোটে লিঙ্গ বৈষম্য চরমেঅসমে মহিলাপ্রার্থীর আকাল
হাইলাইটস
  • মহিলা প্রার্থীর আকাল অসমে
  • মোট আসনের মাত্র ১৩ শতাংশে মহিলা প্রার্থী
  • ৪৭ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের

মহিলা ভোটার কি কম পড়েছে অসমে? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা দেখে অন্তত তেমনই মালুম হচ্ছে। ভোটের অঙ্কের হিসেব করেই প্রার্থী দেয় রাজনৈতিক দলগুলি। অসমে দেখা যাচ্ছে. ৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৯ জন মহিলা। 

২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করলে রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্রে এক গভীর লিঙ্গবৈষম্য ও জনতাত্ত্বিক স্থবিরতার চিত্র ফুটে ওঠে যা গণতান্ত্রিক সমঅধিকারের প্রশ্নে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য লড়াই করা মোট ৭২২ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৯ জন মহিলা যা সামগ্রিক প্রার্থীর মাত্র ৮ শতাংশ এবং এই পরিসংখ্যানটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও মহিলা প্রার্থীর হার ঠিক এই ৮ শতাংশেই থমকে ছিল। 

মহিলা প্রার্থীর আকাল অসমে

যদিও ডিলিমিটেশন বা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের পর প্রার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় মহিলাদের স্থান দেওয়ার মানসিকতায় কোনও গুণগত পরিবর্তন আসেনি যার প্রমাণ হল ৬৬৩ জন পুরুষ প্রার্থীর বিপরীতে মহিলাদের এই নগণ্য উপস্থিতি। বয়স ভিত্তিক বণ্টনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে আসামের নির্বাচনী ময়দান মূলত ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের দখলে যেখানে যুব সমাজের অংশগ্রহণ বেশ সীমিত কারণ ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৭৬ জন যা মোট প্রার্থীর মাত্র ২৪ শতাংশ মাত্র। 

মোট আসনের মাত্র ১৩ শতাংশে মহিলা প্রার্থী

বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সী প্রার্থীদের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এর বিপরীতে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ প্রার্থীদের সংখ্যা বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমশ কমতে শুরু করেছে এমনকি ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজনে এসে ঠেকেছে। রাজনৈতিক দলগুলির সাংগঠনিক কাঠামোর দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি তাদের ৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৬ জন মহিলাকে টিকিট দিয়েছে যা শতাংশের হিসেবে অত্যন্ত কম এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস তাদের মোট আসনের মাত্র ১৩ শতাংশে মহিলা প্রার্থী মনোনীত করেছে যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। যদিও এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর মতো কিছু ছোট দল শতাংশের বিচারে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা সদর্থক ভূমিকা পালন করেছে কিন্তু সামগ্রিক সংখ্যাতত্ত্বে তা কোনও বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী রাজনীতিতে টিকিট বণ্টনের সময় জয়ের সম্ভাবনার দোহাই দিয়ে মহিলাদের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে দলগুলি এখনও চরম অনীহা প্রদর্শন করে। 

Advertisement

৪৭ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের

প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার খতিয়ান অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক দিক উন্মোচন করে কারণ মোট প্রার্থীর ৫৩ শতাংশই স্নাতক বা তার বেশি উচ্চশিক্ষিত এবং বাকি ৪৭ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ যা বিধানসভার বৌদ্ধিক মানে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হতে পারে। তবে এই সামগ্রিক পরিসংখ্যান এটিই বারবার মনে করিয়ে দেয় যে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বা জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটলেও গত কয়েকটি নির্বাচনী চক্র ধরে আসামের রাজনীতিতে লিঙ্গবৈষম্য এবং যুবকদের অনীহার সমস্যাটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মধ্যবয়সী পুরুষদের এই একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে না পারলে বিধানসভায় রাজ্যের অর্ধেক জনসংখ্যার অর্থাৎ মহিলাদের কণ্ঠস্বর বা নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী ভাবনা কতটা গুরুত্ব পাবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement