জ্ঞানেশ কুমারপশ্চিমবঙ্গ আসন্ন বিধানসভা ভোটে যাতে কোনও হিংসা না হয়, আইনশৃঙ্খলা যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিয়ে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, 'আইন মেনে ভারতের নির্বাচন পরিচালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গেও অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।' সেই মতো সব ধরনের ব্যবস্থাও কমিশন গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমেই রাজ্যর শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং পুলিশ, প্রশাসনকে নির্বাচন কমিশনার বার্তা দিলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।
জ্ঞানেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ভোট নিয়ে কোনও ধরনের হিংসা মেনে নেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে কড়া অ্যাকশন নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিচ্ছে কমিশন বলেও সাবধান করে দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেই দলে জ্ঞানেশ কুমার ছাড়াও রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। আর সোমবার এই বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিআইএম, কংগ্রেস সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। সেখানেই রাজ্যের বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে তৃণমূলের ভোট সন্ত্রাস নিয়ে আওয়াজ তোলা হয়। পাশাপাশি আধা সেনার নিস্ক্রিয়তা নিয়েও সরব হন তারা। এরপরই ভোট নিয়ে নিজেদের কড়া অবস্থান সকলের সামনে তুলে ধরে কমিশন।
কমিশনের তরফ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, ভোটেরা আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বা অবৈধ কার্যকলাপ ঠেকাতে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। এমন অবহেলা ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি একইসঙ্গে রাজ্যে নারকোটিকস অ্যাডভাইজরি কমিটি না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলে কমিশন।
এছাড়া আবগারি দফতরকে সীমান্ত এলাকায় বেআইনি মদ তৈরির উপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের সময় অঘোষিত অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা যেন রোখা যায়।
পাশাপাশি কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান হয়েছে। এক্ষেত্রে ব়্যাম্প, হুইল চেয়ার ও পানীয় জলের মতো ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান হয়েছে। পাশাপাশি ভোট যাতে শান্তিতে হয়, তার প্রতিশ্রুতিও মিলেছে। এখন দেখা যাক, বাস্তব পরিস্থিতি ঠিক কোন কোন দিকে যায়।