বাস্তবে কী বলছে Election Commission of India? ভোট যত আসছে, ততই যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের হিড়িক বাড়ছে। সম্প্রতি এমনই একটি গুজব ভাইরাল হয়। তাতে দাবি করা হয়, 'ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত! বুথের ৬০০ মিটারের মধ্যে আর থাকবে না রাজ্য পুলিশ।' তবে বাস্তবে কী বলছে Election Commission of India?
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বড় রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে কলকাতা পুলিশের কমিশনার; একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৭৩টি থানায় বড়সড় বদলি করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতেই এই পদক্ষেপ।
এহেন আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দিচ্ছে। সেই ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, 'বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের বুথের ৬০০ মিটারের মধ্যে বাংলার পুলিশ থাকবে না। শুধুই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।'
তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী জানালেন, এমন কোনও নির্দেশ জারি করা হয়নি।
২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ‘Handbook for Police Officers’-এ স্পষ্ট বলা রয়েছে যে, ভোটকেন্দ্রের ভিতরে এবং বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য পুলিশেরই। অর্থাৎ বুথ সংলগ্ন এলাকায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা অটুট।
শুধু তাই নয়। সেখানে আরও বলা হয়েছে, ভোটের আগে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ; দুই পক্ষকেই মোতায়েন করা হয়। এমনকি কোনও কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনী সময় মতো না পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট বুথে ভোটগ্রহণ শুরু করাই যাবে না, এমন নির্দেশও রয়েছে।
অন্যদিকে, CAPF বা কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কেও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশন করেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশও বুথে মোতায়েন করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি মূল ভূমিকা একটাই। তা হল নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। পাশাপাশি ভোটে যেকোনও ধরনের অনিয়ম ঠেকানো। এর সঙ্গে রাজ্য পুলিশের কোনও সংঘাত নেই।
ফলে, 'বুথের ৬০০ মিটারের মধ্যে রাজ্য পুলিশ থাকবে না'; এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও নির্দেশ জারি হয়নি।