অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়'২৯৪ কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী', সবাই জানেন বক্তা আর কেউ নন, স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একাধিকবার এই কথা বলেছেন। আর এবার তাঁরই পথে হেঁটে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই ধরনের কথা বললেন।
নওদার ভোট প্রচারে গিয়ে অভিষেক বলেন, 'যদি কারও মনে হয় তাঁর সঙ্গে প্রার্থীর মনোমালিন্য হয়েছে, তাহলে ধরে নেবেন আমিই প্রার্থী। ভোটটা আমার হয়েই করবেন।' অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট। প্রার্থী পছন্দ হোক না হোক, আমায় দেখে ভোট দিন। আমার জন্য ভোট করুন।
আর এই অভিষেকের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক শিবিরে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। ভোটের মুখে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার সুরেই সুর মিলিয়ে আদতে কী বার্তা দিতে চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? ঠিক কিসের উপর ভিত্তি করে তিনি এই কথা বললেন? তাঁর এই কথার পিছনে কি নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত রয়েছে?
এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি আমাদের বলেন, 'এটি রাজনৈতিক রেটোরিক (রাজনৈতিক ভাষা)। মমতা বন্দ্যাপাধ্যায় বহুবার বলেছেন যে ২৯৪ আসনে তিনি প্রার্থী। ২০১৬ সালে তিনি এই কথা বেশি বলেছেন। আর এখন অভিষেক এই ধরনের কথা বলছেন। এটায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে পার্টির পরবর্তী মুখ, তা মোটামুটি স্পষ্ট। তাই তিনি একটি রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করতে চাইছেন। লার্জার দ্যান লাইফ প্রতিচ্ছবি তৈরি করার এটা একটা কৌশল।'
যদিও তিনি এই ধরনের কথাকে বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর মতে, এমনটা অনেকেই বলে থাকেন। এই যেমন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার মানুষের কাছে নরেন্দ্র মোদীর নামে ভোট চান। কিন্তু মোদী তো মুখ্যমন্ত্রী হবেন না। তাও বলা হয়। এভাবেই 'রেটোরিক' বা রাজনৈতিক ভাষা তৈরি করা হয়। তবে সবার মুখে এই ধরনের কথা মানায় না বলেও জানান তিনি।
সাহিনার প্রচারে গিয়েই...
দলীয় প্রার্থী সাহিনা মমতাজের প্রচারে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে অভিষেক পৌঁছনোর আগেই চলে গিয়েছিলেন নওদার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সফিউজ্জামান শেখের অনুগামীরা। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার, চেয়ারম্যান নিয়ামত শেখ, দুই সাংসদ ইউসুফ পাঠান ও আবু তাহের খান। এমন সময়ই সফিউজ্জামানের অনুগামীরা তাঁদের সামনেই সাহিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। দেওয়া হয় স্লোগান। এমনকী অভিষেক মঞ্চে ওঠার পরও স্লোগান চলতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেই অভিষেক কথাটি বলেন। আর তারপরই রাজনৈতিক জল্পনা বাড়তে থাকে।