রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্য়ায় ও রনজিৎ চট্টোপাধ্য়ায়।-ফাইল ছবিকাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচন এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি এখানে মুখোমুখি কাকা ও ভাইপো। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, জেলা সভাপতি ও বিদায়ী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রার্থী তাঁরই ভাইপো রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ফলে ভোটের ময়দানে পারিবারিক সম্পর্ক ছাপিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
প্রার্থী ঘোষণার পর রণজিৎ স্পষ্ট বলেন, 'কাকাকে তাঁর দল প্রার্থী করেছে, আমাকেও আমার দল। উনি তাঁর জায়গা থেকে লড়বেন, আমি আমার জায়গা থেকে। এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক লড়াই।'
কাটোয়া শহরের বারায়ারিতলায় একই পৈতৃক বাড়িতে আলাদা সংসারে থাকেন কাকা-ভাইপো। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথের মেজদাদা অনন্ত চট্টোপাধ্যায়ের বড় ছেলে রণজিৎ। সেই সূত্রেই এই আত্মীয়তার সম্পর্ক।
রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রেও কাকার প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন রণজিৎ। তবে তিনি কংগ্রেসেই থেকে যান এবং বর্তমানে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। ২০২২ সালের পুরভোটে কাটোয়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন তিনি।
তবে নির্বাচনের আগে শাসক দলকে নিশানা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন রণজিৎ। তাঁর দাবি, 'কাটোয়ার উন্নয়নের নামে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ আর তোলাবাজি চলছে। পৌরসভার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের নামেও টাকা তোলা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।'
অন্যদিকে, বহু বছরের অভিজ্ঞ রাজনীতিক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এলাকায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ। একসময় কংগ্রেসে থাকলেও ২০১৫ সালে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তারপর থেকে কাটোয়া কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন এবং কংগ্রেস ও তৃণমূল, দুই দলের হয়ে টানা ৬ বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতিও।
ভাইপোর অভিযোগ নিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবীদ রবীন্দ্রনাথ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, 'ও তো নিজেই পৌরসভার সদস্য। তাহলে এই অভিযোগগুলো পৌরসভায় কেন তোলেনি?' একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, 'গণতন্ত্রে যে কেউ কারও বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াতে পারে। সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।'
সব মিলিয়ে, কাটোয়ার ভোট এবার শুধুই রাজনৈতিক সমীকরণের লড়াই নয়। পরিবারের ভেতরের টানাপোড়েনও এই নির্বাচনে আলাদা রঙ এনে দিয়েছে। তাই এই কেন্দ্রের ফলাফলের দিকে নজর থাকছে সবারই।