সোমবার নদিয়ার জনসভা ছিল মমতার। West Bengal Election 2026: বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী M. K. Stalin-এর ‘গোপন সমঝোতা’ নেই তো? সোমবার এমনই সন্দেহ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সেই কারণেই বাংলার একাধিক IAS-IPS অফিসারকে তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন বিরোধী INDI জোটের অন্যতম নেতা। তাঁর বিরুদ্ধেই এবার মমতার মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে।
সোমবার নদিয়ার জনসভা ছিল মমতার। মঞ্চে বলেন, একসঙ্গে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন হলেও পশ্চিমবঙ্গেই অস্বাভাবিক হারে অফিসার বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। 'অন্য রাজ্যে হাতে গোনা কয়েকজন, আর বাংলায় প্রায় ৫০০ অফিসার ট্রান্সফার! কেন?' প্রশ্ন তোলেন। এরপরই বলেন, 'নিশ্চয়ই কংগ্রেস এবং স্ট্যালিনের সঙ্গে কোনও বোঝাপড়া আছে।'
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলার প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করতেই এই পদক্ষেপ। একইসঙ্গে অভিযোগ, 'বিজেপি নিজেদের পছন্দের অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাচ্ছে, যাতে তাদের অবাধ নিয়ন্ত্রণ থাকে।' নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাতেও কটাক্ষ করেন। বলেন, 'আমি নির্বাচন কমিশনকে দোষ দিচ্ছি না, ওরা শুধু সিবিআই, ইডি-র মতো তোতাপাখি।'
সূত্রের খবর, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় ৩ হাজার সশস্ত্র পুলিশ ভিন রাজ্য থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই বাহিনী আসবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে তামিলনাড়ুতে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলেও সেই আবেদন খারিজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁকে দায়িত্বে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিরুনেলভেলি, অম্বাসমুদ্রম, পালায়মকোট্টাই, নাঙ্গুনেরি ও রাধাপুরম এলাকায় তাঁর দায়িত্ব পড়েছে।
নির্বাচনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তা বিধানসভা ভোটের তিন মাস আগে বাতিল করা হয়েছে। সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নিশানা করে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; পুরো সরকারকেই পদত্যাগ করা উচিত। না হলে মানুষই তা করিয়ে নেবে।'
খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়ার উপর বিধিনিষেধ চাপানো হতে পারে।
মালদার মোথাবাড়ির বিচারক ঘেরাও ইস্যুতেও অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৃণমূল কোনওভাবেই এই ধরনের ঘটনার সমর্থন করে না। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, যিনি মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিলেন, সেই অফিসারকেই তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে।
এদিন নির্বাচনের পর দেশজুড়ে বিরোধী ঐক্যের ডাক দেন তৃণমূল নেত্রী। জানান, বিধানসভা ভোটের পর দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট। ভোট মিটলেই রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ভূমিকা নিতে চাইছেন মমতা।