
মালদার মালতিপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের কাছে উড়তে থাকা ড্রোন নিয়ে রহস্য ফাঁস হল। সভাস্থল থেকে অন্যত্র প্রচারে যাওয়ার সময়ে হেলিকপ্টারে উঠতে গিয়েই শনিবার ড্রোন দেখতে পান মমতা। ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন করেন, 'কে ওড়াচ্ছে ড্রোন?' আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'আমার হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হয়ে যেত।' শুধু তাই নয়, পুলিশকে তদন্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। পুলিশি তদন্তে সামনে আসে আসল ঘটনা। গ্রেফতার করা হয় ৩ জনকে।
মমতার হেলিকপ্টারের কাছে ড্রোন ওড়ানোর জন্য ৩ যুবককে আটক করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তারপর তাঁদের তুলে দেওয়া হয় মালদা পুলিশের হাতে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ধৃতরা জানিয়েছেন, তৃণমূলের হয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেনের জন্য ড্রোন ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা।
কোন প্রার্থীর প্রচারে ড্রোন?
সংবাদমাধ্যমের সামনে ধৃত যুবকরা জানান, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের হয়ে ক্যাম্পেন করেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই ড্রোন উড়িয়েছিলেন। উল্লেখ্য, গরিবের বন্ধু বলে ফেসবুকে পরিচিত মতিবুর একজন ইনফ্লুয়েন্সারও বটে। প্রচুর সংখ্যক ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মিউজিক ভিডিও পাবশিল হয় নিত্যদিনই। সেই মতিবুরে জন্য ভিডিও তৈরিতে ভাল শটের আশায় ড্রোন উড়িয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন ধৃতরা।
অর্থাৎ তৃণমূলেরই ক্যাম্পেন করতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন এই ৩ যুবক। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানানি মতিবুর রহমান। মালতিপুরের তৃণমূল প্রার্থী রহিম বক্সিও কোনও মন্তব্য করেননি। গোটা বিষয়টি নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
ঠিক কী ঘটেছিল?
শনিবার মালদায় মালতিপুরে সভা শেষ করে পরবর্তী গন্তব্যে রওনা হওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে উঠতে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই সময়েই তাঁর হেলিকপ্টারের আশপাশে চক্কর কাটতে দেখা যায় একটি রহস্যময় ড্রোনকে। কপ্টারে ওঠার আগে থমকে যান মমতা। সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই বলেন, 'হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়ে যেতে পারত।' কপ্টারে ওঠার মুখে ড্রোন দেখেই নজর পড়ে মমতার। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কোথায় থেকে ড্রোনটি এল এবং কে ওড়াচ্ছে সেটি, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন তিনি। ড্রোনটির গতিবিধি রহস্যজনক মনে করেছেন নেত্রী নিরাপত্তারক্ষীরাও। নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে তিনি জানতে চান, এই ড্রোন কেন উড়ছে? মাইক হাতে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’