প্রতীক ছবিপশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে নির্বাচনের মুখে বাংলায় রাজনৈতিক প্রচারের খরচে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ফ্লেক্স ব্যানারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন প্রার্থী ও দলগুলো।
মুদ্রণ শিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, ফ্লেক্স ব্যানার তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান ‘প্লাস্টিক গ্র্যানুলস’ বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক দানা, যা অপরিশোধিত তেল থেকে বহু ধাপের প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের ফলে তেলের জোগানে টান পড়ায় এই গ্র্যানুলসের দাম বেড়েছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফ্লেক্স ব্যানারের উৎপাদন খরচে।
বিভিন্ন মুদ্রণ সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লেক্স তৈরির খরচ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
একই সুর শোনা যাচ্ছে অন্য প্রিন্টিং ব্যবসায়ীদের মুখেও। তাঁদের দাবি, তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি, যা পুরো মুদ্রণ শিল্পকে প্রভাবিত করছে। আগে ৫x৩ ফুটের একটি ফ্লেক্স ব্যানার ছাপাতে খরচ পড়ত প্রায় ৯৫ টাকা। এখন নাকি সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৫ টাকায়।
সূত্রের খবর, একজন বিধানসভা প্রার্থী সাধারণত ৩ থেকে ৪ হাজার ফ্লেক্স ব্যানার ছাপান। আগে ৩ হাজার ব্যানার ছাপাতে যেখানে খরচ হতো প্রায় ২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা, এখন সেই একই সংখ্যার ব্যানারের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দলগুলো ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়কার দামের সঙ্গে বর্তমান দামের তুলনা করে প্রশ্ন তুলছে, এত কম সময়ে খরচ এতটা বাড়ল কীভাবে!
প্রিন্টিং ব্যবসায়ীরা অবশ্য বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, অপরিশোধিত তেল ও প্লাস্টিক গ্র্যানুলসের দামের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মেলাতে কিছু প্রিন্টিং সংস্থা রাজনৈতিক দলগুলিকে ব্যানারের আকার ছোট করার পরামর্শ দিচ্ছে। আগে যেখানে ৫x৩ ফুটের ব্যানার বেশি ব্যবহৃত হতো, এখন সেখানে ৪x২ ফুটের ব্যানার ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
তবে নির্বাচনের সময় প্রচারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা কমাতে রাজি নন অনেক রাজনৈতিক নেতাই। ফলে খরচ বাড়লেও বড় মাপের ব্যানারের চাহিদা এখনও অটুট।