মঙ্গলবার বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর 'কলকাতায় হামলা'র হুমকি। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুপ থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এহেন আবহেই মঙ্গলবার বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। ইতিহাস মনে করিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করলেন। তাঁর কথায়, '৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত। কী ভাবে পাকিস্তান দু’টুকরো হয়েছিল, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। আবার কিছু করার চেষ্টা করলে ফল কী হবে, তা ওরাই বুঝবে।' সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটা বলেন রাজনাথ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নীরবতার অভিযোগ তুলেছে। সে প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, 'আমি দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। আমি বলছি। একটি বিষয় নিয়ে যে সবাইকেই সবসময় বলতে হবে, তা তো নয়।'
মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে নির্বাচনী প্রচারে আসেন। এদিন বক্তব্যের শুরু থেকে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন রাজনাথ। সভার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের হুমকি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ (Khawaja Asif) সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান নাকি ভবিষ্যতে 'কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাতে পারে'। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক।
#WATCH | West Bengal | "I am the Defence Minister of the country, and I am speaking on it. It is not necessary that everyone speaks on it...," says Defence Minister Rajnath Singh on Abhishek Banerjee's remark "PM Modi silent" on Pak Defence Minister's threat. pic.twitter.com/JctzWvpwro
— ANI (@ANI) April 7, 2026
সোমবার এই ইস্যুতে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকে প্রশ্ন তোলেন, কেন প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনও এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছেন না। তাঁর কথায়, 'পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী যখন বলে, কলকাতাকে টার্গেট করব, সেই কথাটা নরেন্দ্র মোদী কেন গতকাল বাংলায় এসে বললেন না? কেন বললেন না যে উই উইল টেক স্ট্রং অ্যাকশন? মুখ চুপ করে বসেছিলেন। তার কারণ, ব্লুপ্রিন্ট রেডি? আরেকটা পহেলগাঁও? ইলেকশনের আগে? লোক দেখানো? ছদ্মবেশী খেলা?'
একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) গলাতেও। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে পাকিস্তান ইস্যু নতুন নয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এভাবে সরাসরি পাকিস্তানকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা বিরল।