অর্জুন সিং ও সুনীল সিং (ফাইল ফটো) টিকিট না পেয়ে দলের বিক্ষুব্ধদের যখন কড়া বার্তা দিচ্ছেন দলনেত্রী, তখনই তৃণমূল ছাড়ার কথা সরাসরি জানাচ্ছেন সুনীল সিং। নোয়াপাড়ার প্রাক্তন এই বিধায়ক এবার আর টিকিট পাননি। বদলে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আর সেই নিয়ে ক্ষোভে BJP-র পথে পা বাড়াচ্ছেন সুনীল।
সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, '২০২২ সাল থেকেই দল আমায় কোনও কিছুতে রাখেনি। ওরা তো আমার উপর বিশ্বাস করতেই পারছে না। যেখানে বিশ্বাসই নেই, সেখানে থাকা যাবে না। আমি আজকে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিলাম।' একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, BJP-তে যোগদানেরও সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। BJP-র নোয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে সুনীল সিংকে। তিনি এ প্রসঙ্গে সাফাই দিয়ে বলেন, '২৫ বছর ধরে আমরা রামনবমী পালন করি। ওই ব়্যালিতে সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংও এসেছিলেন। দেখা হয়েছে তাই কথা হয়েছে।' অর্জুন সিং বলেন, 'একটু ভাল করে বেসুরো হন উনি। আগে তাঁকে তৃণমূল ছাড়তে হবে। পদেও থাকবে এবং বেসুরোও হবে, দু'টো একসঙ্গে হতে পারে না।' পার্থ ভৌমিকও সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'উনি কী বলেছেন, আমি জানি না। উনি আমার নির্বাচন পরিচালন কমিটির মধ্যে নেই।'
দলের সঙ্গে দূরত্বের কারণ কী?
সংবাদমাধ্যমে কার্যত ক্ষোভ উগরেই সুনীল সিং বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাব কীকরে, মাঝে রয়েছে আইপ্যাক, রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।' সুনীল জানান, তাঁর কোনও দলের প্রতীক লাগে না। তিনি ১৯৯৫ সালে নির্দল হয়ে ভোটে লড়ে কাউন্সিলার হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতী সুনীল সিং ২৫ বছরের কাউন্সিলার, এক বারের বিধায়ক, তিন বারের পুর চেয়ারম্যান। ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে BJP-তে যোগ দিয়েছিলেন সুনীল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে BJP-র প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁকে হারিয়ে নোয়াপাড়ায় জেতেন তৃণমূলের মঞ্জু বসু। সুনীল আবারও ২০২২ সালে তৃণমূলে ফেরেন।