Malda Kaliachak Incident: 'সবচেয়ে বেশি মেরুকরণের রাজ্য বাংলা,' মালদার ঘটনায় রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করার ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মেরুকরণ বাংলায়।

Advertisement
'সবচেয়ে বেশি মেরুকরণের রাজ্য বাংলা,' মালদার ঘটনায় রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টেরমালদা কালিয়াচকের ঘটনা
হাইলাইটস
  • দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মেরুকরণ বাংলায়!
  • কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে তীব্র ভর্ৎসা করল সুপ্রিম কোর্ট
  • ঘটনাটিকে 'পূর্বপরিকল্পিত' বলেও উল্লেখ প্রধান বিচারপতির

মালদার ঘটনা নিয়ে রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের। বৃহস্পতিবার কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করার ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। 

সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মেরুকরণ হচ্ছে বাংলায়। ঘটনাটিকে 'পূর্বপরিকল্পিত, সুচিন্তিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা' বলেও উল্লেখ করা হয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে উদ্বেগজনক।

আইনজীবী কবিপ সিব্বালকে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, 'আপনি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন? বিকেল থেকে জমায়েত শুরু হয়েছে। বিক্ষোভ হচ্ছে। রাতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করা হয়েছে।' আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, এটি অরাজনৈতিক ঘটনা। 


অবিলম্বে মালদার এই ঘটনার জন্য টপ মোস্ট অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। প্রয়োজনে বাহিনী মোতায়েন করার কথাও বলেন নির্বাচন কমিশনকে। কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেগতাও বলেন, 'আমরা অবাক। খুবই খারাপ ঘটনা। এই ঘটনায় কড়া বার্তা দেওয়া উচিত। নিরাপত্তার জন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।'

মালদার ঘটনা প্রমাণ করছে, রাজ্য সরকারের গাফিলতি: সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপিন পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনা রাজ্য সরকার ও তার প্রশাসনিক কর্তাদের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ। পশ্চিমবঙ্গের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনার রাজ্যে সবাই রাজনৈতিকভাবে কথা বলেন। দুষ্কৃতীরা কারা, আমরা কি জানি না? আমি রাত ২টো পর্যন্ত সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছি। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।'

মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, DGP-কে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) এবং জেলা শাসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন। আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন আধিকারিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিক, তা মেনে নেওয়া হবে না।

Advertisement

নিরাপত্তা জোরদার করতে সুপ্রিম কোর্ট কী কী নির্দেশ দিয়েছে? 

নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দায়িত্ব পালনের সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। যেসব আধিকারিক তাঁদের পরিবার নিয়ে হুমকির আশঙ্কা করছেন, তাঁদের বাসভবনেও নিরাপত্তা দিতে হবে। রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে বিচারের কাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারে। আপত্তি জানাতে একসঙ্গে দুই-তিন জনের বেশি লোক প্রবেশ করতে পারবে না এবং শুনানির সময়ে ৫ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।  

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মুখ্যসচিব, DGP এবং রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিককে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এছাড়া, মুখ্যসচিব, DGP, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক এবং SSP-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে আদালত জানতে চেয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তাঁদের ৬ এপ্রিল আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় SIR প্রক্রিয়ায় যুক্ত ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করছিলেন। আদালত জানায়, ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘেরাও শুরু হলেও, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী, জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছননি, ফলে তাঁকে সরাসরি DGP ও হোম সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবশেষে মধ্যরাতের পরে আধিকারিকদের মুক্ত করা হয়। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি শেষ হয়নি। ফেরার পথে তাঁদের গাড়িতে পাথর ছোড়া হয় এবং লাঠি নিয়ে হামলার অভিযোগও উঠে এসেছে।

এই ঘটনার পর আদালতের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছে, বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

 

POST A COMMENT
Advertisement