মালদা কালিয়াচকে অবরোধ উঠলঅবশেষে মালদার কালিয়াচকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হল। বৃহস্পতিবার সকালে অবরোধ উঠল। যদিও পরিস্থিতি এখনও বেশ উত্তেজনাপূর্ণ বলেই খবর।
কেন এমন পরিস্থিতি?
আসলে মালদায় এসআইআর-এ অনেকের নাম বাদ গিয়েছে বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে বিচারকদের উপরই রাগ গিয়ে পড়েছে। তাঁদের ব্লক অফিসে আটকে রেখে আন্দোলনে নেমেছিল ভোটার তালিকায় নাম না ওঠা ভোটার। বুধবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে। বিকেল ৪টা নাগাদ শুরু হয় ঘেরাও। তাতে আটকে পড়েন ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসার।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে শুরু করে মালদহের কালিয়াচক। অভিযোগ, বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন ৭ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৩ জন মহিলা বিচারক। এঁদের ঘিরেই চলে বিক্ষোভ। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেন বিক্ষোভকারীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যতই রাত গড়িয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে ক্রমশ। ট্রাক ও অন্যান্য গাড়ি আটকে জাতীয় সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে জনতা।
সূত্রের খবর,এই ঘটনার কথা জেনেই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন মালদার পুলিশ সুপার। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
এদিকে, রাতেই কালিয়াচকের ঘটনার খবর পায় কমিশন। মালদার জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে সুত্রের খবর। নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছেও রিপোর্ট চাওয়া হয় বলে খবর। এই ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্থা হতে হয় কয়কজন সংবাদমাধ্যমে কর্মীকে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ভাঙচুর হয় গাড়ি।
কনভয়ে ‘হামলার’ চেষ্টা!
বুধবার বেশি রাতের দিকে সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বিরাট পুলিশবাহিনী। আর তখনই বিপত্তি। পুলিশ যখন কনভয় করে তাঁদের উদ্ধার করছিল, তখন হামলা চলে বলে জানা যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের কী অভিযোগ?
আন্দোলনকারীরাও পাল্টা অভিযোগ করেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, পুলিশ বিচারকদের মুক্ত করার সময় লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি কনভয় যাওয়ার সময় একজনের আঘাত লাগে।
প্রায় আট ঘণ্টা পর ঘেরাওমুক্ত
মাথায় রাখতে হবে, বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। আর রাত ১২টার পর পুলিশ গিয়ে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও মুক্তি করে। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বের করে নিয়ে আসে। তারপর উঠল অবরোধও। এখন দেখার পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয় কি না।