
ফের বিতর্কে জড়াল শাসকদল। বহরমপুরের ঘটনার পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা।
ধৃতের নাম হাফিজুল মোল্লা। তিনি দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং জীবনতলা এলাকায় একটি নির্বাচনী সভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নজরে আসে নির্বাচন কমিশন-এর। এরপরই তাঁর গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি bangla.aajtak.in।
অভিযোগ, সভা মঞ্চ থেকে হাফিজুল বলেন, '৪ মে গণনার দিন সন্ধের পর বিশ্বাসঘাতকদের ওপর স্টিম রোলার চালানো হবে।' তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ও আইএসএফ-কে সমর্থন করা মানেই বিশ্বাসঘাতকতা। এই মন্তব্য ঘিরেই চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দলীয় প্রার্থী বাহারুল ইসলামের সমর্থনে প্রচার চলাকালীন একটি ভ্যানের উপর দাঁড়িয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অভিযোগ, বিরোধী দলকে ভোট দিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও ইঙ্গিত দেন হাফিজুল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বহরমপুরে একই ধরনের ঘটনায় তৃণমূল নেতা রাজু মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। এমনকি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটের উপর নজরদারির কথাও বলেছিলেন তিনি।
পরপর এই ধরনের ঘটনার জেরে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।