বিজেপি প্রার্থীর প্রচার।-ফাইল ছবিউত্তর হাওড়া কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসন দখলে মরিয়া বিজেপি শিবির। তবে সামগ্রিক প্রচারে প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায়, এবার হিন্দিভাষী ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করেই কৌশল সাজিয়েছে তারা। বিশেষ করে উত্তর হাওড়ার কয়েকটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে জোরদার প্রচারে নেমেছেন বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই। নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান থেকে শুরু করে বিশ্বমানের হাওড়া বাস টার্মিনাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। আবাসন থেকে মহল্লা, দরজায় দরজায় পৌঁছে জনসংযোগও চালাচ্ছেন নিয়মিত।
অন্যদিকে, এই কৌশলকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের বক্তব্য, ভাষার ভিত্তিতে ভোট ভাগাভাগি গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তাদের দাবি, বাংলা হোক বা হিন্দি, সব ভোটারই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর হাওড়া কেন্দ্রটি জনবিন্যাসের দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এখানে হিন্দিভাষী ও সংখ্যালঘু ভোটারের পাশাপাশি বনেদি বাঙালি পরিবারগুলির উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃণমূল প্রার্থী গৌতম চৌধুরী মাত্র ৫,৫২২ ভোটে জয়ী হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান বেড়ে প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়।
তৃণমূল শিবির এই কেন্দ্রে তাদের উন্নয়নমূলক কাজ, বিশেষত ‘সত্যবালা জল প্রকল্প’-এর সাফল্যকে বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের জলসংকট অনেকটাই মিটেছে এবং তার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। প্রার্থী গৌতম চৌধুরীকেও ১৪টি ওয়ার্ডেই সমান তৎপরতায় প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে, যা সংগঠনের সমন্বিত শক্তিকেই সামনে আনছে।
অন্যদিকে বিজেপি সূত্রে খবর, ১, ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দিভাষী ভোটারদের সংখ্যা বেশি। এছাড়া ২ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডেও তাঁদের উপস্থিতি ৭০-৮০ শতাংশ। সেই কারণেই এই এলাকাগুলিতে বেশি সময় দিচ্ছেন উমেশ রাই। তাঁর দাবি, যেখানে সমর্থন বেশি, সেখানে প্রচারের জোর বাড়ানো স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাঙালি ভোটাররাও তৃণমূলের উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা বুঝতে শুরু করেছেন এবং পরিবর্তনের পক্ষে নীরব জনমত তৈরি হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কয়েকটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের উপর ভর করে উত্তর হাওড়ার মতো বহুমাত্রিক কেন্দ্রে জয় পাওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে হিন্দিভাষী এলাকাগুলিতে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৃণমূল যে প্রভাব ও আস্থা গড়ে তুলেছে, তা নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
বিজেপির এই ভোটভিত্তিক কৌশলকে ‘মেরুকরণের রাজনীতি’ বলেই আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, বিভাজনের রাজনীতি নয়, উন্নয়নই তাদের মূল লক্ষ্য, আর সেই উন্নয়ন সকলের জন্যই সমান।