২০০৬ থেকে ২০২৪, কোন নির্বাচনে কত মৃত্যু?দেশজুড়ে রাজনৈতিক সচেতন মানুষ দেখেছেন, বাংলায় ভোট মানেই রাজনৈতিক হিংসা অবধারিত। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই বোমা বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে প্রাণহানির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষকদের একাংশ দাবি করেন, যেহেতু বাঙালি স্বাধীনতার কয়েকশো বছর আগে থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে প্রচণ্ড সচেতন- তার ফলেই এমন ঘটনা ঘটে। কারণ বাংলার মানুষ রাজনৈতিক ভাবেও অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। এবার দেখে নেওয়া যাক, ২০০২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত কোন ভোটে বাংলায় কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল?
২০০৬ বিধানসভা নির্বাচন:
এই বছর ঐতিহাসিক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় থাকে বামেরা। ২৯২টি আসনের মধ্যে ২৩৫টি আসনই ছিল বামেদের দখলে। সেই বছর তৃণমূল কংগ্রেস ও CPIM কর্মীদের সংঘর্ষে একাধিক কর্মীর মৃত্যু হয়। সরকারি তথ্য না থাকলেও, একাধিক মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ওই নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।
২০০৯ লোকসভা নির্বাচন:
এই নির্বাচনেই জঙ্গলমহলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। CPIM, তৃণমূল-কংগ্রেস ও মাওবাদীদের ত্রিমুখী রক্তাক্ষয়ী সংঘর্ষে ভোটের প্রচারেই কমপক্ষে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে বলে দাবি। ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি নামক একটি জার্নালে দাবি করা হয়, মে মাসের ১৬ তারিখের পর ২০০৯ সালে ভোট হিংসার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছিল। দ্য হিন্দুকে সেই সময় বিমান বসু জানিয়েছিলেন, ২০০৯ সালের লোকসভা ভোট থেকে ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তাঁদের প্রায় ২৬৯ জন সমর্থক খুন হয়।
২০১১ বিধানসভা নির্বাচন:
২০১১ সালে ৩৪ বছর পর বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। বামেদের সরকার থেকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ভোট হিংসার জেরে এই বছর প্রায় ১৭-২৫ জনের মৃত্যু হয় বলে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়। CPIM নেতারা দাবি করেন, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তাঁদের ১৮৩ জন সমর্থক খুন হন।
২০১৪ লোকসভা নির্বাচন:
এই লোকসভা নির্বাচনে দেশের মধ্যে বাংলায় সবচেয়ে বেশি হিংসা দেখা গিয়েছিল। রিপোর্টে দাবি করা হয় কমপক্ষে ৭ জন রাজনৈতিক দলের কর্মীর মৃত্যু হয়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ভোটের সময়কার সংঘর্ষের জেরে প্রায় ১৩৫৪ জন আহত হন।
২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন:
এই বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল কমিশন। কিন্তু তাতে কাজের কাজ বিশেষ হয়নি। কারণ, সেই বছরে কমপক্ষে ৮ জন কর্মী সমর্থকের মৃত্যু হয়। এছাড়াও, বোমাবাজি ও সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকশো মানুষ জখম হন বলে দাবি।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচন:
এই সময় রাজ্যে বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। ব্য়ারাকপুর ও উত্তরবঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের সাক্ষী ছিল ২০১৯ সালের ভোট। সাত দফা ভোটে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি জখম হয়েছিলেন ৭০০ জন।
২০২১ বিধানসভা ভোট:
২০২১-এ তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল কংগ্রেস। কল অফ জাস্টিস-এর ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই বছর কমপক্ষে ১৩০০টি হিংসার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, ২০১৯ থেকে ২০২১ এর মধ্যে বাংলায় ১৩০ জন বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচন:
২০২৩-এ পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা থেকে শিক্ষা নিয়ে লোকসভা নির্বাচনে ৯০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তাতেও মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয় এই নির্বাচনে কমপক্ষে ৬ জন কর্মী সমর্থকের মৃত্যু হয়।