Malda Kaliachak Incident: মালদার কালিয়াচকে ঠিক কী ঘটেছে? বিস্তারিত জেনে নিন

বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটের লিস্ট থেকে নাম ডিলিট হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ। উত্তেজিত জনতা ঘেরাও করল বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের। প্রায় ৮ ঘণ্টা মালদার কালিয়াচকে চলল ঘেরাও। উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার রাতে?

Advertisement
মালদার কালিয়াচকে ঠিক কী ঘটেছে? বিস্তারিত জেনে নিনমালদা কালিয়াচক
হাইলাইটস
  • উত্তেজিত জনতা ঘেরাও করল বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের
  • ৮ ঘণ্টা মালদার কালিয়াচকে চলল ঘেরাও
  • ঠিক কী ঘটেছিল বুধবার রাতে?

মালদার কালিয়াচকের ঘটনাকে 'BJP-র' গেমপ্ল্যান বলেই মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি  মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘির ধুমুরপাহাড়ের সভা থেকে বৃহস্পতিবার বলেন, 'কাল যে ঘটনা মালদায় ঘটেছে, জানি না কারা করেছে, কিন্তু আমার কাছে কেউ কোনও খবর দেয়নি।' সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কারা ঘেরাও করল, ঠিক কী ঘটেছিল রাতে, তা জানতে আগ্রহী সকলেই। 

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। ঘটনাস্থল মালদার মোথাবাড়ি। ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পথ অবরোধ দিয়ে শুরু হওয়া অশান্তিকে কেন্দ্র করে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসের বাইরের এলাকা। ওই ব্লক অফিসের ভিতরে তখন ছিবেন SIR-এর কাজে নিযুক্ত ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ৩ জন মহিলা ছিলেন। বিকেল ৫টা নাগাদ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ব্লক অফিস ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাঁদের সকলকে ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করে। ব্লক অফিসের ভিতরেই আটকে পড়েন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। আনুমানিক বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসটি ঘেরাও করা হয়েছিল।  

কালিয়াচকে BDO-এর গাড়ি চাপা পড়ে সত্যিই ২ জনের মৃত্যু হয়েছে? Fact Check করল পুলিশ

দীর্ঘক্ষণ BDO অফিসে আটকে থাকার পর মধ্যরাতে ঘেরাওমুক্ত হন তাঁরা। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিক্ষোভস্থল থেকে বের করে নিয়ে যায়।  পুলিশের কনভয়ে করে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে গাড়িতে ‘হামলার’ চেষ্টা হয়েছে বলে জানা যায়। 

বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের মধ্যে অনেকের কাছে বৈথ নথিপত্র থাকার পরেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। সেই অভিযোগ তুলেই তাঁদের আন্দোলন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ চলে।  

প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে বুধবার রাত ২টো নাগাদ যান চলাচল শুরু হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে। বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সুজাপুর বিধানসভার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হয়। জানা গিয়েছে, চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পর অবরোধ তোলে আন্দোলনকারীরা। পাল্টা আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঘেরাও হওয়া বিচারকদের উদ্ধারের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি গুরুতর অভিযোগ করা হয়, বিচারকদের নিয়ে কনভয়ে যখন যাচ্ছিল তখন এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা দেওয়া হয়। তাতে আহত হন ওই ব্যক্তি। 

Advertisement

কালীঘাটে মুখোমুখি TMC-BJP, শাহের রোড শোয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে মালদায়। ফের অবরুদ্ধ হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় রাস্তা। বিশাল পুলিশ বাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়। পাশাপাশি মালদার ইংলিশবাজারের জাদুপুর এলাকায় অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর আক্রমণ চালায় উপস্থিত জনতা। এর ফলে এক পুলিশকর্মী আহত বলে খবর মিলেছে। বুধবার যে দাবিতে কালিয়াচকে বিক্ষোভ হয়েছিল, বৃহস্পতিবারও সেই একই দাবিতে বিক্ষোভ হয় পুরাতন মালদায়। 

মমতার প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘির ধুমুরপাহাড়ে জনসভা থেকে মমতা জানান, মালদায় কী ঘটেছে তা জানতেন না। রাতে এক সাংবাদিক তাঁকে খবর দেন। নেত্রী বলেন, 'মানুষের ক্ষোভ থাকতে পারে, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনও সমাধান নয়। মালদার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা পরিকল্পিত। কেউ যেন উস্কানিতে পা না দেন। CBI, NIA এসে গ্রেফতার করতে পারে।'

কী বলছে BJP?

তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং BJP নেতা দিলীপ ঘোষ। সুকান্ত বলেন,  ‘যেটা হয়েছে, সেটা সকলের জন্যই ভয়ের। ৭ জন বিচারবিভাগীয় অফিসার সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁদের শুধু আটকানোই হয়নি, তাঁদের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।' দিলীপ বলেন, 'কালিয়াচকের এই ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও সেখানে একটি থানায় আগুন লাগানো হয়েছিল।'

 

POST A COMMENT
Advertisement