Amitabha Chakraborty BJP: মোদীর সভায় শুভেন্দুর না থাকার নেপথ্যে কলকাঠি নাকি অমিতাভের, কে ইনি, কতটা প্রভাবশালী?

মোদীর সভায় দলের অন্যতম 'পোস্টার বয়ের' এহেন অনুপস্থিতির জন্য অনেকেই আঙুল তুলছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তীর দিকে। বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দুর কাছে ঠিক সময়ে আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি। তাই তিনি যাননি। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতেই পারে, অমিতাভ চক্রবর্তী ঠিক কে?

Advertisement
মোদীর সভায় শুভেন্দুর না থাকার নেপথ্যে কলকাঠি নাকি অমিতাভের, কে ইনি, কতটা প্রভাবশালী?অমিতাভ চক্রবর্তী কে?
হাইলাইটস
  • মোদীর সভায় দলের অন্যতম 'পোস্টার বয়ের' এহেন অনুপস্থিতির জন্য অনেকেই আঙুল তুলছেন
  • শুভেন্দুর কাছে ঠিক সময়ে আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি
  • এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতেই পারে, অমিতাভ চক্রবর্তী ঠিক কে?

রবিবার কোচবিহারে জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভোট ঘোষণার পর বাংলায় এটি ছিল তাঁর প্রথম জনসভা। আর সেই সভাতেই অনুপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নামে আসন বরাদ্দ থাকার পরও সভামঞ্চে শুভেন্দুকে দেখা গেল না। 

আর মোদীর সভায় দলের অন্যতম 'পোস্টার বয়ের' এহেন অনুপস্থিতির জন্য অনেকেই আঙুল তুলছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তীর দিকে। বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দুর কাছে ঠিক সময়ে আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি। তাই তিনি যাননি।

যদিও অমিতাভর বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি এমন কাজ করেছেন বলে জানা যায়। এর আগে এমনই একটি সভায় মনোজ টিগ্গা ঠিক সময়ে আমন্ত্রণ পাননি বলে অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন বঙ্গ সফরে থাকার সময়ও অমিতাভের অঙ্গুলিহেলনেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং সুকান্ত মজুমদার বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতেই পারে, অমিতাভ চক্রবর্তী ঠিক কে? তাঁর উত্থান কীভাবে? তিনি রাজ্য বিজেপিতে কতটা শক্তিশালী?

বিজেপিতে কান পাতলে শোনা যায়, অমিতাভ চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক মুখ। সংগঠনের একবারে নিচু স্তর থেকে তিনি আজ এই জায়গায় উঠে এসেছেন। অমিতাভের এই উত্থানের মূলে আরএসএস এবং এবিভিপি-এর বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। 

আসলে অমিতাভর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর হাত ধরে। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় ছিলেন। এমনকী বহু বড় দায়িত্ব সামলেছেন। তখনই তিনি নেতৃত্বের চোখে পড়ে যান।

ছাত্র রাজনীতির পর আবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ আরএসএস-এ জড়িয়ে পড়েন অমিতাভ। তিনি পূর্ণসময়ের প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সময় তিনি সঙ্ঘের কড়া নিয়ম মেনে চলতে শুরু করেন। যা দেখে তাঁকে একাধিক দায়িত্বও দেয় আরএসএস। 

এরপর স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ থেকেই বিজেপির কাজে জড়িয়ে পড়েন অমিতাভ। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। 

Advertisement

তারপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সেই সময় তিনি প্রথমে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) হিসেবে বিজেপিতে যোগ দেন। যদিও ২০২০ সালে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় তাঁকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) করা হয়। তারপর বিজেপিতে তাঁর গুরুত্ব উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।

মাথায় রাখতে হবে, বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, 'সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন)' পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদে কাজ করার মাধ্যমে তিনি আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করেন। এছাড়া সংগঠনের নেতা হিসেবে বুথ ভিত্তিক সংগঠন তৈরি করা, দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মেটানো এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ রাজ্যস্তরে কার্যকর করাও তাঁর অন্যতম কাজ।

বিজেপি সূত্রে খবর, অমিতাভকে সচরাচর জনসভায় দেখা যায় না। এমনকী তিনি ভোটেও লড়েন না। বরং পর্দার আড়ালে থেকে পুরো সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করেন। আর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রস্তুতিতে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকী দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতাও তাঁর উপর ভরসা করেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নেতাকেই আওয়াজ তুলতে দেখা যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর অনুপস্থিতির জন্য তাঁকেই দায়ী করা হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই প্রশ্ন, এর পিছনে অন্য খেলা চলছে না তো? যদিও সেই উত্তর সময়ই দেবে বলে তাঁরা দাবি করছেন।  

 

POST A COMMENT
Advertisement