সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারতে ঢুকছে বাংলাদেশি ইলিশ?
গত কয়েকবছর ধরেই পুজোর সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ এসেছে ভারতে। হাসিনা জমানায় তো বটেই এমনকী ইউনূস আমলেও এই নিয়মের অন্যথা হয়নি। তারেক রহমানের জমানাতেও কি সেই রীতি বজায় থাকবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এরাজ্যের ইলিশপ্রেমী মানুষের মনে। পুজোয় যাতে পদ্মার ইলিশ পাওয়া যায় তার উদ্যোগ অবশ্য শুরু করে দিয়েছেন ভারতের মাছ ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বিদেশ মন্ত্রক ও বাণিজ্য মন্ত্রকে পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। এ বছর আগেভাগে, সম্ভব হলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির মধ্যেই রফতনির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৮টি প্রতিষ্ঠান ভারতে ইলিশ রফতানি করতে চায়
পুজো উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রফতানির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক। তবে এবার কী পরিমাণ ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান ভারতে ইলিশ রফতানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছে সেদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক।
বাণিজ্যসচিব কী জানাচ্ছেন?
রফতানিকারকদের আবেদনের পর বাংলাদেশে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত জানতে বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক। ওই মতামতের ভিত্তিতেই রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, 'ভারতের মাছ ব্যবসায়ীদের চিঠির পর বাংলাদেশের রফতানিকারকদের কাছ থেকে আবেদন পেয়েছি। কী পরিমাণ ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে, তা মৎস্য মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চিঠিতে কী লিখেছেন?
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রফতানি হচ্ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপুজোর সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ রফতানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হলেও এবার তা আরও আগে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সংগঠনটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বিদেশ মন্ত্রক ও বাণিজ্য মন্ত্রকে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সংগঠনর পরিচালক উৎপল নাথ ই-মেইলে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও অনুরোধ করেছেন।
পুজোর সময়ে কত ইলিশ রফতানি হয়েছে?
তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরিমাণ অনুযায়ী রফতানি হয়নি। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন অনুমোদনের পরেও ভারতে পাঠানো হয় ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে এসেছে ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রফতানি হয় মাত্র ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন রফতানির অনুমোদনের পরে ভারতে যায় মাত্র ১৫০ টন ইলিশ।
রফতানির সময়সীমা বাড়ানোর দাবি
বাংলাদেশি রফতানিকারকেরা এবার আগের বছরগুলোর মতো স্বল্প সময়ের পরিবর্তে দীর্ঘ মেয়াদে ইলিশ রফতানির অনুমতি চেয়েছেন। তাদের দাবি, অন্তত দুই মাস, সম্ভব হলে সারা বছর রফতানির সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের সময়সীমার মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ইলিশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কারা ভারতে ইলিশ পাঠাতে চায়?
এ বছর যেসব প্রতিষ্ঠান ইলিশ রফতানির অনুমতি চেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনার বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ, চট্টগ্রামের জেএস এন্টারপ্রাইজ ও আনরাজ ফিশ প্রোডাক্টস, যশোরের লাকি এন্টারপ্রাইজ, এমইউসি ফুডস, মোহতাব অ্যান্ড সন্স ও জনতা ফিশ, ঢাকার ভিজিল্যান্ট এক্সপ্রেস, স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, ম্যাজেস্টিক এন্টারপ্রাইজ ও বিডিএস কর্পোরেশন, বরিশালের মহিমা এন্টারপ্রাইজ, এআর এন্টারপ্রাইজ ও তানিশা এন্টারপ্রাইজ, ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ এবং সাতক্ষীরার এমএ এন্টারপ্রাইজ ও সুমন ট্রেডার্স।