ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন দেশ ও রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানরা তারেককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ব্যতিক্রম নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশ অনেকটা সীমানা ভাগ করে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কারণে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঢাকা সফর অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত একজন সিনিয়র প্রতিনিধি পাঠাবে বলে ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রত্যাশা মতোই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমানই। আগামী মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ওই দিনই শপথ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
নতুন বাংলাদেশ সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথাও তুলে ধরেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। তাঁর মতে, সরকারের অগ্রাধিকার হবে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের নীতি প্রণয়ন করবে সরকার।
'বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই বিদেশনীতি তৈরি করব'। ভোটে জয়ের পর জানালেন তারেক রহমান।
নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের ওপর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফেরানো এবং ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি গড়ে তোলা।
ভারতের সঙ্গে কী ধরনের বৈদেশিক নীতি রেখে চলবে বিএনপি? গত দেড় বছরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের যথেষ্ট টানাপোড়েন দেখা গেছে। বিএনপির ইশতেহারে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার কথা বলছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির কী অবস্থান? ইন্ডিয়া টুডে'কে বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানালেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) হুমায়ুন কবীর। বাংলাদেশের পরবর্তী বিদেশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নামই উঠে আসছে।
'বাংলাদেশের আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আর একটি অংশ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছিল। আওয়ামী লীগ না থাকায় কয়েকটা আসনে জিতেছে জামাত'। বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নতুন সূচনার পথে বাংলাদেশে। দীর্ঘ দেড় বছর পর বাংলাদেশের জনগণ পাচ্ছে নির্বাচিত সরকার। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিএনপি।
বাংলাদেশের ভোটে বড় জয় পেয়েছে তারেক রহমানের BNP। খারাপ অবস্থা জামাত-ই ইসলামী জোটের। আর এই খবর চাউর হওয়ার পরই সমাজমাধ্যমে 'গালাগালি' খাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিক তথা জামাতপন্থী পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি একটি পোস্টে লেখেন, 'এই বিজয় বিএনপি ডিপ স্টেট আওয়ামী লিগ আর ইন্ডিয়ার'। আর তারপর জনতার যত ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে পিনাকীর উপর।
চরম ভারত বিরোধী। ষড়যন্ত্র করে গ্রেনেড হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির সাজা পেয়েছিলেন। সেইরকম ৩ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাল বাংলাদেশ। এই জয় রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। একইসঙ্গে আগামী দিনে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়, তা-ও ভাবাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলকে।