দিল্লি থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন তিনি ডিসেম্বর মাসে ঢাকা ফিরবেন। তারপরই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ তাঁর আওয়ামী লিগ দলের সঙ্গে জোট করতে চাইছেন BNP সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি জানান, ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর। তাঁর লক্ষ্য, বাংলাদেশে শান্তি ফেরানো। সেই কাজটা হাসিনার সঙ্গে করছেন।
ভারতে বসে হাসিনাকে এভাবে প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের জন্য 'অত্যন্ত বেদনাদায়ক' বলে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টাও ধাক্কা খেতে পারে বলেও মত তাদের।
মুজিবুর রহমানকে যখন হত্যা করা হয় তখন হাসিনা তাঁর দুই সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিম জার্মানিতে। বাবার মৃত্যুর খবর শুনেও তিনি বাংলাদেশে ফিরতেও পারেননি। তাঁকে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি।
এখন প্রশ্ন হল, ৫ অগাস্ট হাসিনার জনসমক্ষে আসা ও সাংবাদিক বৈঠককে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি কীভাবে দেখছে? হাসিনার বক্তব্য সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বিএনপি সরকার। আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেই মোটামুটি বিএনপি সরকারের ক্ষোভকেই প্রাধান্য দেওয়া হল।
এদিকে শাকিবের বাড়িতে হামলার ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আওয়ামি লিগ। তাদের দাবি, এটি নিছক ভাঙচুর নয়, বরং শাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ডিসেম্বরেই ঢাকায় ফিরবেন। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এখনই তারিখ জানাতে রাজি নন। যথাসময়ে তারিখ জানাবেন।
এবারও যে তিনি দেশে ফিরবেন সেই ব্যাপারে নিশ্চিত তার উদাহরণ দিতে গিয়ে হাসিনা জানান, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেও তাঁকে বাংলাদেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি আমার দেশ থেকে দূরে আছি, কিন্তু আমার জনগণ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হইনি। আমি ও আমার পরিবার বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছি। এটা সেই বাংলাদেশ নয়, যার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন।'
হাসিনা বলেন, '২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঘটনাগুলি নিয়ে প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে চাই। সেই সময় ভুয়ো প্রচার চালানো হয়েছিল। প্রকৃত ছাত্রদের ব্যবহার ও প্রভাবিত করা হয়েছিল স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বারা।'
‘৩২ বছর আমি নির্বাসনে আছি। আমি অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরতে চাই। কিন্তু আমাকে ফিরতে দেওয়া হয় না। আমার পাসপোর্ট রিনিউ করে না বাংলাদেশ সরকার। এবং আমার যে সুইডিস পাসপোর্ট আছে ওটাতেও ভিসা দেয় না। তাই আপাতত ভারতেই থাকব।' কলকাতা সফর সেরে ফিরে যাওয়ার সময় কলকাতা বিমানবন্দরের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে এমনটাই জানালেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন।