রংপুরে হিন্দু পরিবারের ৪ জনকে খুন, সিঁড়ি-ছাদ-ঘর থেকে উদ্ধার একের পর এক দেহ

ওই আধিকারিকের আরও দাবি, বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে কোনও এক সময় খুন করা হয় চারজনকে। দেহ দেখে মনে হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে খুন।

Advertisement
রংপুরে হিন্দু পরিবারের ৪ জনকে খুন, সিঁড়ি-ছাদ-ঘর থেকে উদ্ধার একের পর এক দেহ রংপুরে একই বাড়ির সব্বাইকে খুন
হাইলাইটস
  • রংপুর জেলা স্কুলে পড়াতেন গণপতি
  • তাঁর দুই সন্তানই লেখাপড়া করছিল

বাংলাদেশে ফের আক্রমণের শিকার হিন্দু পরিবার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে খুন করল দুষ্কৃতীরা। ঘটনা রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া গ্রামের। সেখানে একটি তিনতলা বাড়িতে থাকতেন চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যররা। শনিবার রাতে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে মৃতদের নাম গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৪) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৮)। বেশ কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। গতকাল দুর্গন্ধ আসতে শুরু করে। তারপরই পুলিশ এসে বাইরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। চারজনের দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিকভাবে অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁদের।

'দ্য ডেইলি স্টার'-কে জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন CID-র আধিকারিক সুবীর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রীতিলতা এবং আগামীর দেহ উদ্ধার হয় সিঁড়ি থেকে। গণপতির মরদেহ মেলে ছাদে। একটি খাটের নিচে ছিল আয়ুশের নিথর শরীর। 

ওই আধিকারিকের আরও দাবি, বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে কোনও এক সময় খুন করা হয় চারজনকে। দেহ দেখে মনে হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে খুন। ডাকাতির উদ্দেশ্য থাকতে পারে দুষ্কৃতীদের। কারণ ঘরের ভিতরে আলমারি বা ড্রয়ার খোলা অবস্থায় ছিল। গলায় গামছা বা দড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। 

রংপুর জেলা স্কুলে পড়াতেন গণপতি। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসর নেন। তাঁর মেয়ে কলেজে পড়ছিলেন, ছেলে প্রাইমারি স্কুলে। নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বোনের সঙ্গে বিকেলে শেষবার কথা হয়েছিল। সেই রাত থেকেই চারটি ফোন বন্ধ ছিল। 

তাঁর কথায়, 'ফোন বন্ধ পেয়ে আমরা শনিবার রাতে এখানে আসি। বাড়ির প্রধান দরজা তালাবদ্ধ ছিল এবং ভেতরের সব আলো নেভানো ছিল। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এবং মরদেহগুলো উদ্ধার করে। কে বা কারা আমার বোন ও তাঁর পুরো পরিবারকে হত্যা করল, তা আমি বুঝতে পারছি না। আমার বোনের স্বামী খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর কোনও শত্রু ছিল না। এখানে একটি নতুন বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছিলেন।' 

Advertisement

গণপতির ভাইজি সোমা জানান, 'শনিবার রাতে খবর পেয়ে আমি এখানে আসি এবং মরদেহ দেখতে পাই। কাকা, কাকিমা, বোন ও ভাইকে খুন করা হয়েছে। আমার কাকার কোনো শত্রু ছিল না। স্কুল থেকে অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।' 

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন জানিয়েছেন, গণপতি কয়েক বছর আগে এই গ্রামে বসবাস শুরু করেছিলেন। তাঁর তিনতলার নির্মাণ কাজ এখনও  শেষ হয়নি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করত না পরিবারটি।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। তার রিপোর্ট সামনে আসার পরই মৃত্যুর তারিখ বা সময় জানা যাবে।  

POST A COMMENT
Advertisement