গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ওপরে বাঁদিকে), নিতাই রায় চৌধুরী, সাচিং প্রু (নীচে বাঁদিকে) ও দীপেন দেওয়ান।-কোলাজ, ছবি : প্রথম আলোবাংলাদেশ নির্বাচনে সংখ্যালঘু চারজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বিএনপি মনোনীত। বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণের পর ২৭০টির বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো' জানাচ্ছে, যে ৪ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৩ জন হিন্দু। এঁদের মধ্যে আবার দুই প্রার্থী সম্পর্কে একে অপরের বেয়াই।
ঢাকা ৩: গয়েশ্বরের জয়
ঢাকা ৩ আসনে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মহম্মদ শাহীনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
মাগুরা ২: বেয়াই নিতাই রায়ের সাফল্য
মাগুরা ২ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বেয়াই। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।
বান্দরবন: সাচিং প্রুর জয়
বান্দরবন আসনে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ মহম্মদ সুজা উদ্দিন পেয়েছেন ২৬ হাজার ১৬২ ভোট। সাচিং প্রু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
রাঙ্গামাটি: দীপেন দেওয়ানের বড় ব্যবধান
রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির দীপেন দেওয়ান জয়লাভ করেছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২ ভোট।
মনোনয়ন ও ফলাফল
এবার বিএনপি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ছয়জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চারজন জয়ী এবং দুজন পরাজিত হয়েছেন, বাগেরহাট ১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট ৪ আসনের সোমনাথ দে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিলেও তাঁরা কেউই জয় পাননি। খুলনা ১ আসনে জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার ৪ আসনে এনসিপির প্রীতম দাশ পরাজিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট অন্তত ৭৯ জন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি দল সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দেয়। এছাড়া ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো