ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত তথাকথিত তিনটি ভিডিও। প্রতিটি ভিডিওই শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের হামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন ইজরায়েলের নাগরিকরা। আমরা আমাদের অনুসন্ধানে দেখেছি যে এই ভিডিওগুলির সঙ্গে ইরান-ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের কোনও সম্পর্ক নেই।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে কলকাতায় নরেন্দ্র মোদীর সভার কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি কয়েকমাস পুরনো এবং হরিয়ানার করনালের।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মহিলার মৃত্যু হয়নি। তিনি অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে যান।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের তরফে ইজরায়েলি সেনা বা গুপ্তচরকে আটকের দৃশ্য নয়। বরং সেটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সিরিয়ার আলেপ্পোতে সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী সদস্যদের তরফে সিরিয়ান সেনাবাহিনীর একজন জওয়ানকে আটকের দৃশ্য।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, দাবিটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গ নয় বরং ত্রিপুরা রাজ্যের কথা বলছিলেন এবং সেখানকার বর্তমান বিজেপি সরকারকে কৃতিত্ব দিচ্ছিলেন।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওর ব্যক্তি আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দেহরক্ষী নয়। বরং তিনি ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল সিরায়ায় গ্রেফতার প্রাাক্তন রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদ সরকারের আমলের কমান্ডার তাইসির মাহফুজ।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ দুটির সঙ্গে ইরান-ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং প্রথম ক্লিপটি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসের একটি শাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। অন্যদিকে দ্বিতীয় ক্লিপটি ২০১৬ সালের ২৩ অগস্ট চিনের ডাকিং পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে অগ্নিনির্বাপক রোবটের সাহয্যে মহড়ার দৃশ্য।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দুটি ভিডিও-র একটিও ইজরায়েলের নয়। প্রথমটি প্রায় ১০ বছর আগে আমেরিকার একটি ঘটনার। দ্বিতীয়টি ২০২৫ সালে দুবাইয়ের একটি অগ্নিকাণ্ডের।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ছবিগুলি কোনও আসল ঘটনার নয়, বরং সবগুলি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে যে, সেখানে ইজরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে হামলা চালাতে দেখা গেছে ইরানের মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রকে। এই প্রতিবেদনে এমনই তিনটি ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে, যেগুলির সঙ্গে বর্তমানে চলমান ইরান-ইজরায়েল কোনও সম্পর্ক নেই।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি সম্প্রতি ইরানে লুকিয়ে থাকা দশজন মার্কিন গুপ্তচরকে আটকের দৃশ্য নয়। বরং সেটি ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর লেবানন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সিরিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার সময় বহিষ্কৃত বাশার আল-আসাদ সরকারের আমলের ১২ জন সেনা আধিকারিককে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে আটকের দৃশ্য।
কিছু ভিডিও ছড়িয়ে ইরান দ্বারা ইজরায়েলে ও দেশটির রাজধানী তেল আবিবে হাইপারসনিক মিসাইল হামলার দাবি করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে সে রকমই তিনটি ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।