পহেলা বৈশাখ জয়ার বাড়িতেএপার বাংলার মতো ওপার বাংলাতেও নববর্ষ নিয়ে প্রস্তুতি থাকে তুঙ্গে। খাওয়া-দাওয়া, অতিথি আগমন, বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করা, সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখে যেন সাজো সাজো রব পড়ে যায়। বাংলার নতুন বছরকে একটু অন্যরকমভাবে স্বাগত জানানোর রেওয়াজ রয়েছে এই পদ্মাপারের দেশে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই বাংলা নববর্ষ প্রতি বাড়িতেই পালন হয়। আর অভিনেত্রী জয়া আহসান প্রত্যেক বছরই নিজের মতো করে এই বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করেন।
তবে জয়ার বাড়িতে পহেলা বৈশাখ যেন আগেই এসে গিয়েছে। তারই টুকরো ছবি অভিনেত্রী ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। জয়া তাঁর নিজের বাড়িতেই ছোটখাটো বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছিলেন। কী কী ছিল সেই আয়োজনে? গান, খাওয়া-দাওয়া, ট্যারো কার্ড, ঝালমুড়ি সহ নানা জিনিসের পসরা। জয়ার বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন দুই বাংলার আর এক জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও। রঙিন কাগজের শিকল, ঘুড়ি আর পতাকা দিয়ে সাজানো গোটা বাড়ি। আনাচেকানাচে ফুলের টব, দেওয়ালে ফুলের ঝাড়, লতাপাতা। তাতে শোভা আরও বেড়েছে। মুড়ি, মুড়কি, মোয়া, বাতাসা, গজা হয়ে রকমারি ফল, ফুচকা। সঙ্গে পান্তা, ইলিশ, ভর্তা— আরও কত কী! বাগানের এক কোণে টিয়াপাখি নিয়ে বসেছেন ভবিষ্যদ্বাণী।
জম-জমাটি খাওয়া-দাওয়া, সঙ্গে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। জয়া এই উৎসবের দিনগুলোতে নিজের পরিবারের সঙ্গে থাকতেই বেশি ভালোবাসেন। প্রসঙ্গত, নববর্ষে বাংলাদেশে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে। তাই জয়ার বাড়িতে ছিল পান্তা ও রকমারি ভর্তার আয়োজন। জয়া তাঁর পোস্টের মাধ্যমেই জানিয়েছেন যে তিনি নিজের হাতে পান্তা মেখেছেন, সঙ্গে ইলিশের পদ এবং আরও বাঙালি খাওয়া-দাওয়া। চঞ্চল চৌধুরীর পাশাপাশি জয়ার বাড়িতে এদিন অতিথি হিসাবে দেখা গিয়েছে পরীমণির প্রাক্তন স্বামী শরিফুল রাজকেও।
জয়া তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এই তিন-চারটি দিন নিজের দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেই পারি না। যা কিছু বাঙালিয়ানায় ভরপুর, সে সবই পহেলা বৈশাখে উদ্যাপনের চেষ্টা করি। নববর্ষে পান্তা ভাত খাই। কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকদের প্রিয় খাবার এ পান্তা ভাতই। তাদের সম্মান জানাতেই নববর্ষে পান্তাভাত খাওয়ার রীতি প্রচলিত আছে দীর্ঘ সময় ধরে। এ পান্তার সাথে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে নানান পদের ভর্তারও আয়োজন করেছি। সবাইকে শুভ নববর্ষ।