আবু সাঈদ (সেই ভাইরাল ছবি)Bangladesh Abu Said: পুলিশের গুলিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। গণঅভ্যুত্থানের সেই প্রথম শহীদের খুনের মামলায় অবশেষে এল ঐতিহাসিক বিচার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায় ঘোষণা করে প্রাক্তন এএসআই আমির হোসেন এবং প্রাক্তন কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের বাকি দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এম মঞ্জুরুল বাসিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছর। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। গত ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২৭ আগস্ট শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন খোদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ২৭ জানুয়ারি চূড়ান্ত সওয়াল-জবাব সম্পন্ন হয়। আজ সেই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত পরিণতি দেখলেন দেশবাসী।
এই মামলায় মোট ৩০ জন অভিযুক্তের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জন শ্রীঘরে রয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত দুই পুলিশকর্মী আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায় ছাড়াও পুলিশের হেফাজতে আছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, প্রাক্তন সহকারী রেজিস্ট্রার রফিকুল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার অফিসের প্রাক্তন কর্মী, মো. আনোয়ার পারভেজ এবং নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। এদিন রায় ঘোষণার সময় এই ছয়জনকেই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
তবে এই মামলার অধিকাংশ অভিযুক্তই এখনও আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য মো. হাসিবুর রশিদ-সহ মোট ২৪ জন অভিযুক্ত পলাতক। এই তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন দুই সহযোগী অধ্যাপক, প্রাক্তন সহকারী রেজিস্ট্রার, প্রাক্তন সেকশন অফিসার, প্রাক্তন এমএলএসএস, প্রাক্তন নিরাপত্তা রক্ষী। পলাতক অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের তৎকালীন দাপুটে কর্তারাও। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুলিশ আধিকারিকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতেই সেদিন সাঈদের ওপর গুলি চলেছিল।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আবু সাঈদ দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ঘটনার ভিডিও চিত্র এখনও মানুষের মনে দগদগে। দুই হাত দুপাশে প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ যখন বারবার তাঁর বুক লক্ষ্য করে গুলি চালায়, সেই দৃশ্য পৃথিবী জুড়ে ভাইরাল হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের এই রায় সেই লড়াইয়েরই নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন ছাত্র সমাজ। সাঈদের পরিবার অবশ্য বিচারের শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল। আজ দুই প্রত্যক্ষ ঘাতকের ফাঁসির আদেশে তাঁরা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছেন, যদিও অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনও অধরা।