Anti India Rallies in Dhaka: 'পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে', BJP-কে হুঁশিয়ারি ইসলামি নেতার

সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ-ভিত্তিক বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠন ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন দলের ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা নমাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের বাইরে জড়ো হন এবং ভারত-বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে বিজয়নগরের দিকে অগ্রসর হন।

Advertisement
'পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে', BJP-কে হুঁশিয়ারি ইসলামি নেতারঢাকা থেকে ফের শুরু হয়েছে ভারত বিরোধী স্লোগান


একাধিকবার রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল  সরকার বিএসএফ- কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে অসহযোগিতা করছে। আর এর জেরে যে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল, অনুপ্রবেশ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছিল, সীমান্ত সুরক্ষিত ছিল না। আর সোমবার নবান্নে গিয়ে  মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে BSF- কে জমি হস্তান্তর করতে হবে, এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে। বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর যতটা জমি প্রয়োজন, ততটাই স্থানান্তর করা হবে।  এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই  লাফালাফি শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। তাদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে নাকি বিজেপি সরকার গঠন করার পরে মুসলিমদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। এই আবহে ঢাকার শাহাবাগে 'আজাদি আন্দোলন' ব্যানারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে মুসলিমদের ওপর  নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ-ভিত্তিক বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠন ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন দলের ব্যানারে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা নমাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের বাইরে জড়ো হন এবং ভারত-বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে বিজয়নগরের দিকে অগ্রসর হন। সংগঠনগুলো পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলের পর মুসলমানদের  লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে। এই বিষয়ে  ভারতকে অভিযুক্ত করেছে এবং এই বিষয়ে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

 

 

বিক্ষোভরত নেতারা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, তাদের বয়ান যথেষ্ট জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।  ইসলামিক ইউনিটি অ্যালায়েন্স দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর কথিত হামলা, নির্যাতন, মাদ্রাসা ও মসজিদে হামলা, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মঞ্চ থেকে বেশ কয়েকজন ইসলামপন্থী নেতা আক্রমণাত্মক ভারত-বিরোধী বক্তব্য দেন। একজন ইসলামপন্থী নেতা সতর্ক করে বলেন, ভারতে মুসলিমদের ওপর কথিত হামলা হলে বাংলাদেশ ও ভারতের হিন্দুরা 'নিরাপদ থাকবে না।' সমাবেশে এক বক্তা বলেন, 'আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে চাই যে, যদি ওপারের আমাদের মুসলিম ভাইয়েরা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে শুধু এপাশের হিন্দুত্ব সমর্থকরাই নন, ভারতের যেকোনও জায়গার হিন্দুত্ব সমর্থকরাও নিরাপদ থাকবেন না।'

Advertisement

‘ভারত খণ্ড খণ্ড হবে’ বিক্ষোভে উস্কানিমূলক বক্তব্য
সমাবেশে আরেক বক্তা ভারতের বিরুদ্ধে  উস্কানিমূলক হুঁশিয়ারি দিয়ে দাবি করেন যে, 'ভারত খণ্ড খণ্ড হবে।' বক্তা বলেন, 'আপনারা পশ্চিমবঙ্গে বিজয় অর্জন করেছেন। মুসলিম জাতি যখন জেগে উঠবে তখন কী হবে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। দিল্লিতে আবার কালিমার পতাকা উঠবে। আমি সেই সময় আবার আসতে দেখছি। আপনাদের দেশ খণ্ড খণ্ড হবে।' আরেকজন ইসলামপন্থী নেতা বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ তুলে হুমকি দেন যে, পশ্চিমবঙ্গ একদিন ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রতিবাদী ভাষণে ওই নেতা দাবি করেন, 'আমরা বাবরি মসজিদ ভুলিনি। আরেকটি দীর্ঘ সংগ্রামের সময় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।' কলকাতার দিকে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধমূলক দীর্ঘ পদযাত্রার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে বেশ কয়েকজন ইসলামপন্থী নেতার উপস্থিতি
জোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আবুল কাসেমের পাশাপাশি মাওলানা জুনায়েদ গুলজার, মাওলানা বেলাল হোসেন, মাওলানা তালহা বিন আবদুল হাই এবং মাওলানা মনসুর জাহানপুরী সমাবেশে ভাষণ দেন। অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা মঞ্জুর মুজিব, মাওলানা ফারুক আহমেদ, মাওলানা মোঃ সালমান, মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী, মাওলানা কাজী আজিজুল হক, মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ, মাওলানা আবদুল হান্নান এবং মাওলানা সাখাওয়াতুল্লাহ প্রমুখ। বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে বিজয়নগর মোড় প্রদক্ষিণ করে মসজিদ প্রাঙ্গণে  শেষ হয়।

POST A COMMENT
Advertisement