বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংতিস্তা নদী ইস্যুতে চিনের সরাসরি এন্ট্রি এবার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভারতের। বাংলাদেশ যেভাবে তিস্তা ইস্যুতে বেজিংয়ের কাছে নিজেদের আত্মসমর্পণ করছে,তাতে তিস্তার মতো একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে চিনকে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে নাক গলানোর সুযোগ করে দিচ্ছে ঢাকা। যে নদীর বেশি ভাগ ভারত ও পরে বাংলাদেশের মধ্যে বয়ে গিয়েছে, সেই নদী ঘিরে নানা ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে চিনকে টানা হচ্ছে কেন?
তিস্তা নিয়ে বেজিংয়ের দ্বারস্থ ঢাকা
সম্প্রতি বেজিং সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে চিনের জলসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা নদী প্রসঙ্গ তোলেন তারেক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অফিস সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছে, তিস্তা ও বাংলাদেশের অন্যান্য নদী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা রিভার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টে (তিস্তা প্রকল্প) বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে চিন। যার নির্যাস, তিস্তা প্রকল্পে সরাসরি বেজিংয়ের সাহায্য চেয়েছে ঢাকা। অথচ গোটা আলোচনায় মূল পক্ষ ভারত বাদ। তিস্তার বেশির অংশই কিন্তু ভারতে প্রবাহিত।
তারেকের এই চিন-প্রেম দিল্লির কাছে উদ্বেগের
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি অনেক দিন ধরেই বকেয়া। বিএনপি-র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে অন্যতম ছিল তিস্তা ইস্যু। বাংলাদেশে ভোটের আগে বিএনপি দাবি করেছিল, তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি কার্যকর হবেই বিএনপি ক্ষমতায় এলে। বাংলাদেশে এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ক্ষমতায় রয়েছে। এবং দেখা যাচ্ছে, তিস্তা প্রকল্পে তারা সরাসরি চিনের হস্তক্ষেপ চাইছে। যা দিল্লির কাছে চিন্তার। স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশ ও চিনের সখ্যে নজর রাখছে ভারতও।
জানা গিয়েছে, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে সব রকমের সহযোগিতা করতে চিন প্রস্তুত, স্পষ্ট করেছে বেজিং। চিন নাকি তারেককে অফার করেছে, শুধু তিস্তা নয়, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নদী উপত্যকার প্রোটেকশন ও ইনল্যান্ড নেভিগেশনেও সব রকম সাহায্য করবে বেজিং। ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে চিনে প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশের আধিকারিকদের আমন্ত্রণও জানিয়েছে বেজিং।
২০০৫ সালের MoU-এর স্মরণ করাল চিন
বাংলাদেশের ওয়াটার ম্যানেজমেন্টকে অত্যাধুনিক করতে ও সার্বিক ভাবে পরিকাঠামো আরও ভাল গড়ে তুলতে চিন যাতে সাহায্য করে, তার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তারেক রহমান। চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জলসম্পদ সহযোগিতা নিয়ে ২০০৫ সালের MoU-এর ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে কাজ এগোচ্ছে। বেজিং আরও উল্লেখ করেছে, গত বছর বাংলাদেশ সফর করেছিলেন চিনা জলসম্পদ বিশেষজ্ঞরা। সেই ধারাবাহিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হল তিস্তা নদীর ভৌগোলিক অবস্থান। নদীটির উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। সেখান থেকে এটি পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি ঝুলে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টনের অনুপাত নিয়ে মতপার্থক্যের জেরেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তিস্তা ব্যবস্থাপনায় চিনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে আঞ্চলিক জল-কূটনীতিতে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিবেশী দেশে বেজিংয়ের প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।