Bangladesh elections IndiaBangladesh Election 2026: দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাস বয়ে নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ জাতীয় নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর এটিই দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১,৪০০ মানুষ। তার পরেই পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিষিদ্ধ হয় তাঁর দল আওয়ামি লীগ। এবার ব্যারিকেডের বদলে ব্যালট বাক্সই নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ। এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের টিকে থাকার পরীক্ষা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শিকড় স্বাধীনতার আগেই। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামি লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। তার পর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১-এ স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মাথায় একদলীয় শাসন কায়েম করেন মুজিব। ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থানে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসন, অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়েছে। জিয়াউর রহমান, পরে এরশাদ, একাধিক শাসক ক্ষমতায় আসেন ও সরেন। ১৯৯০-এর গণআন্দোলনের পর গণতন্ত্র ফিরলেও, রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসেন দুই নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। তাঁদের তিক্ত দ্বন্দ্ব তিন দশক ধরে দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে।
২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন শেখ হাসিনা। বিরোধীদের গ্রেপ্তার, জামাত-ই-ইসলামি নিষিদ্ধকরণ এবং বিতর্কিত নির্বাচন। সব মিলিয়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ভোট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের শুরুতে কার্যত একদলীয় শাসনের অভিযোগ জোরদার হয়।
জুলাই বিপ্লব থেকে অন্তর্বর্তী সরকার
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ ও প্রাণহানির অভিযোগে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস।
বর্তমানে বিএনপি আবার নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরেছে। জামাত-ই-ইসলামিও সক্রিয়। তবে আওয়ামি লীগের অনুপস্থিতি এবারের নির্বাচনে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম মুজিব পরিবারের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক উপস্থিতি ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রয়াস শেষ হয়েছে অভ্যুত্থান, দুর্নীতি বা সহিংসতায়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা, সবই বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। বাংলাদেশ কি সংবিধানভিত্তিক স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, নাকি আবারও অস্থিরতার চক্রে ফিরবে? তার উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটে।