একাধিক 'বিপ্লব'-এর পর এবার নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশএকাধিক 'বিপ্লব'-এর পর এবার নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম নির্বাচন হতে চলেছে পদ্মাপারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লিগ নেই, তাই ভোটে যুযুধান দুই পক্ষ হল বিএনপি ও জামাত। এছাড়া, কিছু ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীরাও ভোটের ময়দানে নেমেছেন।
ভোটে আসন, প্রার্থী সংখ্যা কত?
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রদত্ত তথ্য অনুসারে ২০২৬ সালের ভোটে বাংলাদেশে মোট সংসদ আসনের সংখ্যা রয়েছে ৩০০টি। এই আসনগুলিতে মোট ২০৪৭ জন প্রার্থী মোট লড়ছেন। সারা দেশের থেকে মোট ৫২টি রেজিস্টার করা রাজনৈতিক দল এই আসনগুলিতে প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে এই গণতান্ত্রিক মহাযজ্ঞ সম্পন্ন করতে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটার কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোটারদের সম্পর্কে তথ্য জানুন
বাংলাদেশে মোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১২ কোটি ৬১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৩৫১ জন। এই মানুষেরাই ঠিক করবে বাংলাদেশের মসনদে বসবে কোন পক্ষ। মোট ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩ জন ভোটার রয়েছে পুরুষ। ৬ কোটি ২৬ হাজার ৩৯ হাজার ১২৮ জন রয়েছে মহিলা ও ১২২০ জন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।
কোন দল কত প্রার্থী দিয়েছে?
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুসারে, আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। বিএনপি মোট ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জামাতের প্রার্থী রয়েছে ২২৪টি আসনে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী লড়বে মোট ২৫৩টি আসনে, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আছেন ১৯২ আসনে। এনসিপি-র প্রার্থী আছে মাত্র ৩২টি আসনে।
এছাড়াও, সিপিবির ৬৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪, খেলাফত মজলিসের ২১, গণ অধিকার পরিষদের ৯০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ৩০, গণফোরামের ১৯, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ ও নাগরিক ঐক্যের ১১ জন প্রার্থী আছেন।
ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা
এবার বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে একইসঙ্গে। বিবিসি বাংলার তরফে বলা হয়েছে, একই সঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনে ফলাফল তৈরিতেও সময় বেশি লাগবে। সাধারণত ভোটের দিন থেকেই গণনা শুরু করা হয়।
অন্যদিকে ফল ঘোষণা প্রসঙ্গে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তরফে করা হয়নি। যদিও সূত্রের দাবি, ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারই ফলাফল দেওয়া হবে। কোনও কারণে খুব বেশি দেরি হলে তা ১৪ ফেব্রুয়ারিও হতে পারে।