বাংলাদেশ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেড়ে যাওয়া কুর্সিতে কে বসবেন? তা নির্ধারণ করতেই ভোটাধিকার প্রয়োগ বাংলাদেশের। দৌড়ে এখন দু’জন প্রতিদ্বন্ধী। দ্যপ্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেখ রহমান এবং কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠন জামায়েত ইসলামির আমির শফিকুর রহমান। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হবে। একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও।
ছাত্র আন্দোলনকে অনুঘটক করে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে ২০২৪ সালে ৫ অগাস্ট পতন ঘটেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগ সরকারের। হাসিনা তাঁর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ক্ষমতার বসেছিল নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার অভিযোগে ইউনূসের জমানায় ফাঁসির সাজা হয়েছে হাসিনার। অধিকাংশ জনমত সমীক্ষা রিপোর্টেই এগিয়ে রাখা হয়েছে BNP-কে।
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়া। আর খালেদা জিয়া প্রয়াত। দীর্ঘ ৩৫ বছর পরে এই প্রথম বাংলাদেশের ভোটে বেগমদের ছাড়াই। ১৮ মাস মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের আওতায় থাকার পরে এখন দেখার হাসিনার গদিতে কাকে বসান ওপার বাংলার নাগরিকরা।
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ৫২টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।তারেক রহমানের দল বিএনপি ৫০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, জামাত ইসলামি ১৮টি আসনে এগিয়ে।
বাংলাদেশে ভোটের ফলাফল সামনে আসতে শুরু করেছে। ৩ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপির জোট। সেখানে জামাত এখনও পর্যন্ত ১ আসনে এগিয়ে।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান বেসরকারি ফলাফল অনুসারে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১,৭১,৫৯৮ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামাত-ই-ইসলামীর প্রার্থী আবু সালেহ মোঃ মতিউর রহমান, তিনি মোট ৫৫,৫৭৭ ভোট পেয়েছেন।
প্রথম আলো সূত্রে খবর, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটে এগিয়ে আছেন জামাত-ই-ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৩৪ ভোট। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৯ ভোট। জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ ভোট।
বিএনপির বিজয় অনিবার্য, ভোটের চূড়ান্ত ফল না পাওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে দলটির জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদিক সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন বিএনপির নেতা, পোলিং অফিসার-সহ মোট ৭ জন মারা গিয়েছেন। যদিও মৃত্যু ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের রাজনীতি শুরু হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে যা ফলাফল আসবে তাই মেনে নেবেন। জানালেন জামাত ইসলামির প্রধান। তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষ সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা-১৫ আসনে (মিরপুর, ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৪, ১৩, ১৪, ক্যান্টনমেন্ট, ডিএনসিসি ওয়ার্ড ১৬) ভোটের ১টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে ৯৬৯টি ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের মনোনীত বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫২৮টি ভোট।
শেখ হাসিনার সরকারের প্রাক্তন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী (২০২০–২০২৪) এবং প্রবীণ আওয়ামী লিগ নেতা এস এম রেজাউল করিম নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশ রূপান্তর। তিনি নারায়ণগঞ্জ–৩ আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে তিনি নির্বাচনে অনিয়ম দেখতে পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতাকর্মীরা এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভুয়ো ভোট দিয়েছেন।
ইসি সূত্র জানায়, গণনার সময় প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে আধিকারিকরা সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গণনা করবেন।
বাংলাদেশে ভোটদানের হার কম হওয়া নিয়ে সরব হলেন দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লিগের তরফে বিবৃতিতে বলা হল, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুসের সাজানো ভুয়ো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনগণের নেতা শেখ হাসিনা দেশের সর্বস্তরের মানুষ, মা-বোন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ—সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনুসের আয়োজিত তথাকথিত এই নির্বাচন আসলে ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনাকে অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লিগ ও ভোটারবিহীন এক প্রতারণামূলক নির্বাচন আয়োজন করা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ব্যাপকভাবে টাকা দিয়ে ভোট কেনা, ব্যালট পেপারে সিল মারা এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের জোর করে সই নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রহসনের সূচনা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির সকাল থেকে দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। রাজধানীসহ অনেক জায়গায় বহু কেন্দ্র কার্যত ফাঁকা ছিল। নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং অনুযায়ী সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোট পড়েছে মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এত কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ ছাড়া এই নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে। গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লিগ ভোটার, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, গ্রেফতার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে জোর করে ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবুও সব ভয় উপেক্ষা করে তারা এই ভুয়া নির্বাচন বর্জন করেছে। ফলে দেশের অধিকাংশ কেন্দ্র কার্যত ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া বিশেষ করে ঢাকায় ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত সন্দেহজনক ও অবিশ্বাস্য বলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল, ইউনুসের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সব রাজনৈতিক বন্দি, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের মুক্তি, আওয়ামী লিগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিজয়ী হলে মিছিল বা স্লোগান দেওয়া হবে না। সিজদা পড়া হবে।
বাংলাদেশে জামাত ই ইসলামি ক্ষমতায় আসবে কিনা, তা এখনও বলা যাচ্ছে না। সবে শুরু হয়েছে ভোটগণনা। সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো' জানাচ্ছে, জামাত প্রধান শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই, সরকারটা হোক জনগণের, কোনও দলের নয়, ব্যক্তির নয়, পরিবারের নয়। দল, ব্যক্তি ও পরিবারের গণ্ডি অতিক্রম করে ১৮ কোটি মানুষের সরকার কায়েম হবে আগামীকাল থেকে। সেটাই আমরা আশা করি।’
বাংলাদেশে ভোট গণনা শুরু হয়ে গেল। বিবিসি জানাচ্ছে, ৬ লাখ ৪৮ হাজার পোস্টাল ব্যালট নির্বাচন কমিশনের কাছে এসেছে। এবারই প্রথমবার পোস্টাল ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর বাইরে বাংলাদেশের কারাগারে থাকা বন্দিরা এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার 'পোস্টাল ভোট বিডি' অ্যাপে নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে সাত লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি।
ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন শেষ হয়েছে, প্রথম আলো সূত্রে খবর। দুটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণই ছিল। এর মধ্যে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলে মহিবুজ্জামান কচি নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার আটাকড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কাছে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ভোটার কেন্দ্র ছেড়ে সরে যান। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি মহিলা ভোটকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ ওই কেন্দ্র থেকে এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং দুই পোলিং এজেন্টকে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, কুমিল্লার আতাকাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের কাছে দুপুরের দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই কেন্দ্র ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কিছু সময় পর আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ৭টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
বেলা ২ টো পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আজ বিকেল সোয়া চারটার দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হিংসা ও অনিয়মের কিছু অভিযোগ এসেছে। এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।