তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনভেনি ভিডি ভিসি। খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান যেন এটাই করে দেখালেন- 'এলাম, দেখলাম, জয় করলাম'। দেড় দশক পর বাংলাদেশে ফিরে দেশের সাধারণ নির্বাচনে জিতলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার তারেক। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের এই জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 'আওয়ামী লীগ' নিষিদ্ধ হওয়ায় এবার ভোটের ময়দানে দুই মেরুতে ছিল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভোটপ্রবণতার নিরিখে আসন সংখ্যায় এগিয়ে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান জানান, দুটি আসনেই জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর এই জয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থাকা সত্ত্বেও তারেকের উপর ভরসা রেখেছেন ভোটাররা। ধর্মকে হাতিয়ার করেও জামায়াতে এঁটে উঠতে পারছে না।
এদিকে, ভোটের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, এই ভোট প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের সাধারণ মানুষ। এ জন্য ভোটের হার এত কম! আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফের অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি জানান। মুজিবর কন্যার কথায়,'বাংলাদেশের আপামর জনগণ ভোট বয়কট করেছেন। তাঁদের ধন্যবাদ। অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের এই ভোট একটা পরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনাকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ছাড়াই ভোট হয়েছ। যা নিছক প্রতারণা।'
এবারের ভোটে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়েছে। লুটপাট চলেছে বলেও অভিযোগ করেছেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, '১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধে থেকে ভোটকেন্দ্র দখল, গুলি, অর্থবিলি, ব্যালট পেপার চুরি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম ছিল। সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ১৪.৯৬%। এই হারই প্রমাণ করে, জনগণ আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন বয়কট করেছে'।
২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত ছিল। সে দেশের নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রায় ১২.৭ কোটি ভোটার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ প্রথমবারের ভোটার।