Bangladesh Election Result: ভারতে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত সেই ৩ প্রার্থীই জয়ী বাংলাদেশে

চরম ভারত বিরোধী। ষড়যন্ত্র করে গ্রেনেড হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির সাজা পেয়েছিলেন। সেইরকম ৩ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাল বাংলাদেশ। এই জয় রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। একইসঙ্গে আগামী দিনে ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়, তা-ও ভাবাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলকে।

Advertisement
ভারতে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত সেই ৩ প্রার্থীই জয়ী বাংলাদেশেবাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত ৩ প্রার্থীর বিরাট জয়
হাইলাইটস
  • গ্রেনেড হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির সাজা
  • ৩ প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাল বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশের সংসদে থাকবে এই ৩ ভারত বিরোধী সাংসদ

বাংলাদেশ নির্বাচনের ফলাফল চমকপ্রদ বললেও কম বলা হয়। ভোটে জিতে সাংসদ পদ পাচ্ছেন ৩ মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত প্রার্থী। প্রত্যেকেই চরম ভারত বিরোধী এবং ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপরাধেই সাজাপ্রাপ্ত। তাঁদের এই জয় রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে দেশের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেখানে তারেক রহমানতকে গণতন্ত্র স্মরণ করিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশের সংসদে থাকবে এই ৩ ভারত বিরোধী সাংসদ। 

জয়ী এই ৩ প্রার্থীর মধ্যে ২ জন BNP-র সদস্য। ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের অস্ত্র সরবরাহ এবং ভারতে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছে তারা। তৃতীয় জন জামাত-ই-ইসলামির প্রার্থী। তিনিও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আদালত এদের ৩ জনকেই বেকসুর খালাস করেছিল। 

এই ৩ জয়ী প্রার্থীর মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর পূর্বে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ সালের  ঢাকা গ্রেনেড হামলার জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। যেখানে বেশ কয়েকজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছিল। অস্ত্র চোরাচালানের মামলাতেও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর আদালতে তাঁকে খালাস দেয় এবং জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। 

একইরকম উত্থান আবদুস সালাম পিন্টুর। প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবে তিনি একই গ্রেনেড হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছিলেন। ভারতে বেশ কয়েকটি হামলার সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠনকে সমর্থন করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল। পরে আদালত তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। এখন তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে পৌঁছচ্ছেন। এটি প্রশ্ন তুলছে অতীতের অভিযোগগুলি কি তবে নির্বাচিত প্রতিনিধির জন্য কার্যকর নয়? 

তৃতীয় প্রার্থী হলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় গণহত্যা এবং নারীর উপর অত্যাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে খালাস করে দেয়। এখন তিনিও নির্বাচনে জয়লাভের পর সাংসদ হিসেবে শপথ নেবেন। 

Advertisement

এই ৩ নেতার প্রত্যাবর্ধন প্রমাণ করে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে। একসময় ভবিষ্যতের জন্য নির্ধারিত নেতারা এখন জনসাধারণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে উঠছেন। এটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে গণতন্ত্র স্মরণ করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে ভাই বলে সম্বোধন করে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মাঝেই ভারতবিরোধী মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত ৩ প্রতিনিধির সাংসদ নির্বাচিত হওয়া আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে সমীকরণ কোন জায়গায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার। 

 

POST A COMMENT
Advertisement