ভোটের আগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা, দাবি ঐক্য পরিষদের।Bangladesh elections 2026: ভোটের আগে সাম্প্রদায়িক হিংসা বেড়েই চলেছে। দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবি, ক্রমেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা দানা বাঁধছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঐক্য পরিষদ জানায়, শুধু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্তত ৫১টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। ওই সব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১০টি খুন। পাশাপাশি একাধিক জায়গায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালানো হয়েছে সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে নির্যাতন, ধর্ষণের চেষ্টা এবং শারীরিক হামলার মতো গুরুতর ঘটনাও।
সংগঠনের বক্তব্য, নতুন বছরের শুরুতেও এই হিংসা থামেনি। গত ২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলায় এক সংখ্যালঘু কৃষকের ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। তার পরদিন, শরীয়তপুরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। এমনকি দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। একই সময়ে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীদের ডাকাতির ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ, ওই সব ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা ও রুপো লুট করা হয়েছে।
৪ জানুয়ারি আরও একাধিক গুরুতর ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে ঐক্য পরিষদ। ঝিনাইদহ জেলায় একটি গয়নার দোকান থেকে প্রায় ৩০ ভরি, অর্থাৎ আনুমানিক ৩৫০ গ্রাম সোনা লুটের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ৪০ বছরের এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিবৃতিতে দাবি, ওই মহিলাকে প্রকাশ্যে অপমান ও শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিককে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চরমপন্থী গোষ্ঠীর চাপের কথাও জানানো হয়েছে।
৫ জানুয়ারি যশোরে এক কারখানা মালিককে তাঁর কর্মস্থলেই গুলি করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। একই দিনে নরসিংদীতে এক মুদিখানার দোকানদারকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় সংগঠন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবি, এই লাগাতার হিংসার জেরে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সংগঠনের মতে, সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখানো এবং তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দমন করতেই এই হামলাগুলি চালানো হচ্ছে। 'দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে,' বিবৃতিতে দাবি করে সংগঠন।
ঐক্য পরিষদ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, যাতে নির্বাচনী সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করা যায়। রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে বাংলাদেশে। এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরও রয়েছে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।