ওপার বাংলায় ভয়াবহ বন্যা।Bangladesh Flood Update: লাগাতার অতিবৃষ্টি। সেই সঙ্গে পাহাড়ে বিধ্বংসী ধস। আশঙ্কাজনক বন্যা পরিস্থিতি ওপার বাংলায়। প্রকৃতির রুদ্ররূপের গ্রাসে চলে গিয়েছে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো সূত্রে খবর, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ; এই ৭টি জেলার বন্যা পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রকের সর্বশেষ দৈনিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ৫৮টি উপজেলা এখন জলের তলায়। বন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক ধসের জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪। ঘরছাড়া ও পানিবন্দি লক্ষ লক্ষ মানুষ। ওপার বাংলার এই জল-যন্ত্রণা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, বাংলাদেশের প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লক্ষ ২২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
নদীগুলির জল এখনও বিপদসীমার ওপরে
বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত দু’দিনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু এবং সোমেশ্বরী; এই পাঁচটি প্রধান নদীর জল এখনও সাতটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে নতুন করে ফেনী, সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে তিস্তা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে সর্বোচ্চ ১৪৪ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামের আমবাগানে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণের জেরে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এখনও বহাল রয়েছে ওপার বাংলায়।