শেখ হাসিনা (ছবি : ITG) ভারতে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ফের সরব ঢাকা। এবার আরও কড়া বার্তা দিল বাংলাদেশ সরকারের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ধরে আনতে চান তাঁরা। তারপর ফাঁসি দিতে চান। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পর সমালোচনার ঝড় বইছে। নিজের দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঢাকার সচিবালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে তাঁকে সেই সাজা পেতে হবে। এমনকী, দেশে ফিরে তাঁর মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগও থাকবে না বলে দাবি করেছেন তিনি। বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি ভারতের উপর চাপ তৈরির কোনও কৌশল নয়। বরং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
জাহেদ উর রহমান বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ আসলে ভারতের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট এবং এই দাবি কোনও ‘ট্যাকটিক’ নয়।
বাংলাদেশের এই তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারত সরকারের সামনে বিষয়টি শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং ঢাকা আশা করছে, নয়াদিল্লি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। তারপরই তাঁর সংযোজন, 'আইন মেনে শেখ হাসিনা বাংলাদে্শে ফিরলেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা তাঁকে ধরে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই।'
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ নাও থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, বাংলাদেশে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে। আর তাই বাংলাদেশ সরকার তাঁর নিজের ইচ্ছায় ফেরার অপেক্ষায় না থেকে ধরে এনে দেশে ফেরাতে চায়।
ভারতকেও বার্তা ঢাকার
শেখ হাসিনাকে ভারতে থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। জাহেদ উর রহমানের অভিযোগ, বাংলাদেশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার আশা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারত সরকার তাঁকে এই ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টার দাবি, ভারত চাইলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
২০২৪-এর ৫ অগস্ট বাংলাদেশ ছাড়েন হাসিনা
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এরপর তিনি ভারতে চলে আসেন। তারপর থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এর পর তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা।
এই ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। কারণ শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বেড়েছিল। তবে অন্তর্বতী সরকার ও পরে ভোটে নির্বাচিত তারেক রহমানের বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে সেই দেশের সম্পর্ক জটিলতার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। তাই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রশ্নটি শুধু একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণও।