Bangladesh China Defence Deal: এবার যুদ্ধের জন্য ড্রোন বানাচ্ছে বাংলাদেশ, চিনের সঙ্গে বড় চুক্তি ইউনূসের

সম্প্রতি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানের মধ্যে বৈঠক হয়। যেখানে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান নিয়ে দুই তরফের আলোচনা হয়। এবার চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল ইউনূসের বাংলাদেশ। মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপনসহ প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (CETC) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদর দফতরে এই চুক্তি সই হয়।

Advertisement
এবার যুদ্ধের জন্য ড্রোন বানাচ্ছে বাংলাদেশ, চিনের সঙ্গে বড় চুক্তি ইউনূসেরচিনের সঙ্গে এবার ৬০৮ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি ইউনূসের

সম্প্রতি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানের মধ্যে বৈঠক হয়। যেখানে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান নিয়ে দুই তরফের আলোচনা হয়। এবার চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল ইউনূসের বাংলাদেশ। মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপনসহ প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (CETC) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদর দফতরে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষ মন্ত্রক এই নিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে।  দেশের আকাশে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনূস সরকার সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চিনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করছে। গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) ভিত্তিতে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের প্রস্তাব ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রক থেকে অনুমোদন পেয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি মন্ত্রক প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।

এই বিষেয় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে  জানান হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তিটি হয়েছে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে। মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্পের জন্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আইএসপিআর জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা স্থাপন করবে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পদক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে ইউএভি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সহায়ক হবে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়াম আলটিটুড লো এনডুরেন্স (এমএএলই) ইউএভি ও ভার্টিক্যাল টেক–অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ভিটিওএল) ইউএভি উৎপাদন, সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নিজস্ব ইউএভি এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন করবে। এই ইউএভিগুলো সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তাসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ অর্থাৎ ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রযুক্তি আমদানি ও ড্রোন কারখানা স্থাপনে ব্যয় হবে। বাকি ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এলসি খোলার চার্জ, ভ্যাট ও সুইফট চার্জ বাবদ খরচ করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনালের সরবরাহকৃত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। 

Advertisement

আইএসপিআর বলেছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ইউএভি উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনে অনেকটাই এগিয়ে যাবে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রসঙ্গত, চিন কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা হার্ডওয়্যারের প্রধান সরবরাহকারী। বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২.২ বিলিয়ন মার্কিন  ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করছে, যা পুরনো এফ-৭ এবং মিগ-২৯ বিমান প্রতিস্থাপন করবে।
 

POST A COMMENT
Advertisement