Mecca Pact Bangladesh: বাংলাদেশ ইসলামিক NATO-তে সম্ভবত যোগ দিতেই চলেছে, ভারতের কী হবে? সহজে বুঝুন

Islamic NATO: বাংলাদেশ মক্কা ডিলে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে দেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Advertisement
বাংলাদেশ ইসলামিক NATO-তে সম্ভবত যোগ দিতেই চলেছে, ভারতের কী হবে? সহজে বুঝুনইসলামিক ন্যাটো-তে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশ
হাইলাইটস
  • ইসলামিক NATO-তে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা 
  • ইসলামিক NATO  কী?
  • বাংলাদেশে ইসলামিক NATO-তে যোগ দিলে ভারতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

ইসলামিক NATO-তে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশও? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ভারত সফর নিয়ে নানা গড়িমসি করছেন, তখনই তাঁর রিয়াধ সফরের সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হল জল্পনা। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধ যেতে পারেন তারেক। সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক মিলে যে NATO স্টাইলে নয়া ডিফেন্স ফ্রেমওয়ার্ক বানিয়েছে, যাকে মক্কা ডিল বলা হচ্ছে, সেই জোটে যোগ দিতে পারে বাংলাদেশও। ঢাকার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, ইসলামিক ন্যাটো-তে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনার দরজা খুলে রেখেছে বাংলাদেশ।

ইসলামিক NATO-তে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা 

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুই মন্ত্রী জানাচ্ছেন, বাংলাদেশ ও জনগণে স্বার্থসিদ্ধি যদি হয়, তাহলে ওই জোটে বাংলাদেশ যোগ দিতেই পারে। তাঁদের মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে, বাংলাদেশ মক্কা ডিলে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে দেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে গত ৭ অগাস্ট একটি ডিফেন্স ডিল সই করেছে। চুক্তিটি সম্মিলিত প্রতিরোধের একটি কাঠামো। এতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের মধ্যে যে কোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের নয়া প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানান, এই তিন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ফ্রেমওয়ার্কে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক ভাবে ভাবছে বাংলাদেশ। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষার উপরে। 

মক্কা ডিফেন্স এগ্রিমেন্টের পরে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানরা- রয়টার্স
মক্কা ডিফেন্স এগ্রিমেন্টের পরে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানরা- রয়টার্স

কবীরের কথায়, 'সরকারের নীতি হল বাংলাদেশ ফার্স্ট। এমন একটি বিদেশনীতি, যাতে জাতীয় স্বার্থও অন্যতম গুরুত্ব পাবে।' তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে, যেখানে বাণিজ্য এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো শীঘ্রই রিয়াধ সফরে যাবেন। তাঁকে সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমান আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বাংলাদেশের আরেক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের কথায়, 'আমরা মক্কা ডিলে যোগ দেব কিনা, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে, বাংলাদেশের স্বার্থের উপরে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ যাতে সুরক্ষিত থাকে।'

Advertisement

ইসলামিক NATO  কী?

পোশাকি না মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মিলে গত ৭ অগাস্ট এই ডিলে সই করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, এই তিনদেশের কোনও একটিতে হামলা হলে, তা তিন দেশের উপরে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনটি দেশেরই বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ও প্রতিরক্ষার জন্যই এই চুক্তি করা হয়েছে। 

ভারতীয় নৌবাহিনী- ছবি সৌজন্য পিটিআই
ভারতীয় নৌবাহিনী- ছবি সৌজন্য পিটিআই

বাংলাদেশে ইসলামিক NATO-তে যোগ দিলে ভারতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। মাত্র ২২ কিমি চওড়া এই অংশ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ রক্ষা করে। যদি বাংলাদেশ মক্কা ডিলে যোগ দেয়, তা হলে তারা পাকিস্তান ও তুরস্কের নিরাপত্তার সঙ্গে একসঙ্গে থাকবে। তা হলে পূর্ব সীমান্তে বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন গোয়েন্দা তৎপরতার সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লিকে নতুন করে মোকাবিলা করতে হতে পারে। অতীতেও  উত্তর-পূর্ব ভারতে সক্রিয় ভারতবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে আশ্রয় ও রসদ-সহায়তা পাওয়ায় ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি বিশাখাপত্তনম ও আন্দামান-নিকোবর অঞ্চলে রয়েছে। বাংলাদেশ যদি তুরস্কের যুদ্ধজাহাজ বা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার বা যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়, তা হলে ভারত বিষয়টিকে নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। কারণ, তখন পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ভারতের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তুরস্কের আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি বা যুদ্ধজাহাজ বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত দেখা গেলে ভারতকে আরও বেশি নজরদারি ও গোয়েন্দা ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। ফলে ভারতকে ভারত মহাসাগরের অন্য জায়গা থেকে কিছু নৌবাহিনী ও নজরদারি সম্পদ বঙ্গোপসাগরের দিকে সরাতে হতে পারে।

POST A COMMENT
Advertisement