
জামাত প্রধানের X অ্যাকাউন্ট থেকে ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট নিয়ে বিক্ষোভআগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। ভোটের উত্তাপ এখন চড়ছে গোটা দেশে। আর এর মাঝেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে করা ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশ। সম্প্রতি শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি পোস্ট গত শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জামায়াতে ইসলামে নারী নেতৃত্ব এবং চাকরিজীবী মহিলাদের বিষয়ে করা বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
শফিকুর রহমানের ওই পোস্টে বলা হয়, 'নারী প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর বা কুণ্ঠাবোধের নয়, বরং নীতিগত। নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। জামায়াতে এটা অসম্ভব। আল্লাহ এটা অনুমোদন করেননি।'ওই পোস্টে আরও লেখা হয়েছিল,'আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিকতার নামে নারীদেরকে ঘরের বাইরে ঠেলে দেওয়া হলে তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটা পতিতাবৃত্তি ছাড়া কিছু নয়।'
ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হতেই শনিবার রাতেই হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের প্রাক্তন সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। দলের প্রধান শফিকুরের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়। ফেসবুকে জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, সাময়িকভাবে জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টহ্যাক করা হয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ ও বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে দলের সাইবার টিম অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়।
এই বিতর্কে জামায়াত দাবি করেছে, দলীয় প্রধানের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে দলটি। এদিকে শফিকুর রহমানের পোস্টের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে জাতীয়তবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি বিক্ষোভ করেছে রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। ওই বক্তব্যকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপিও।

প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের উঠে আসার সুযোগ না থাকার বিষয়ে শফিকুরের বক্তব্যের কয়েকদিনের মাথায় এক্স পোস্ট সামনে আসে। কাতারভিত্তিক ওই সংবাদমাধ্যমের করা এক প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, কোনো নারী কখনো তার দলের আমির হতে পারবেন না, কেননা তার ভাষায়, আল্লাহ নারীদের ‘সেভাবে’ সৃষ্টি করেননি এবং এটা ‘পরিবর্তনযোগ্য নয়’। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলই ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি, কারণ এটা ‘বাংলাদেশের একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা’ এবং বেশির ভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’।
এদিকে জামায়াতের আমিরের নামের এক্স অ্যাকউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই পোস্টে নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঝাড়ু মিছিলও করেছে একদল মহিলা শিক্ষার্থী। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে দেখে জামাত বিবৃতি দেয়, 'এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টে জামায়াতের আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।' তারা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, 'এই পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াতের আমিরের কোনও বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।'
রবিবার জামাতের প্রচার এবং সংবাদমাধ্যম বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তাদের আমির অর্থাৎ শীর্ষনেতা এক্স অ্যাকাউন্ট কেউ বা কারা ‘ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে’ হ্যাক করেছে। তাদের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এই নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। কারা করেছে, তা জানার চেষ্টা করছে। অনেক দিন ধরেই আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি জুবায়ের। তিনি আরও দাবি করেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এ সব করা হয়েছে। শনিবার রাতে এই নিয়ে থানায় ডায়েরি করা হয়েছে জামাতের তরফে বলেও জানান জুবায়ের। জুবায়ের নাম না করলেও আঙুল তুলেছেন বিএনপির দিকে। তাঁর কথায়, ‘একটা গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তারা কিছু খারাপ ও আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে। জামায়াতের আশঙ্কা, এ কাজের সঙ্গে বিশেষ একটি দল বা তাদের সাইবার দলের কিছু ষড়যন্ত্রকারী জড়িত রয়েছে।’