Bangladesh Jamaat e Islami manifesto: মন্ত্রিসভায় মহিলা ও সংখ্যালঘু, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কেরও আশ্বাস; ভোটে জিততে উল্টোসুর 'জঙ্গি' জামাতদের

ভোটের আগে বুধবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহারে দেশ পুনর্গঠনের রূপরেখার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক, শাসন সংস্কার, অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
মন্ত্রিসভায় মহিলা ও সংখ্যালঘু, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় 'জঙ্গি' জামাতরা
হাইলাইটস
  • ভোটের আগে বুধবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে।
  • ইশতেহারে দেশ পুনর্গঠনের রূপরেখার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক, শাসন সংস্কার, অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভোটের আগে বুধবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ইশতেহারে দেশ পুনর্গঠনের রূপরেখার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক, শাসন সংস্কার, অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামি জানিয়েছে, ভারত-সহ ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নারী বিষয়ক বিতর্কের প্রেক্ষিতে দলটি ইশতেহারে উল্লেখ করেছে, সরকার গঠন করতে পারলে যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণীদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, দলের আমির ড. শফিকুর রহমানের একটি বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। যদিও জামায়াতে ইসলামি দাবি করেছে, ওই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে অভিযোগের আবহে জামায়াতে ইসলামি জানিয়েছে, তাদের মন্ত্রিসভা দেশের বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করবে এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে শাসন সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংসদকে শক্তিশালী করা, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনী সংস্কার এবং পুনর্গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতাবান করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামি সরকারি পরিষেবার ডিজিটালাইজেশন, জনপ্রতিনিধিদের সম্পদ ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা, দ্রুত বিচার এবং অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের আওতায় বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

Advertisement

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কার, বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, শিল্প সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন ফি ছাড়া মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ, তরুণ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন সুযোগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। ধাপে ধাপে বিনামূল্যে শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা, সামাজিক সুরক্ষা এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামি তাদের এই ইশতেহারকে ‘বৈষম্যমুক্ত, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ’ গঠনের রোডম্যাপ হিসেবে তুলে ধরেছে, যেখানে সততা, ঐক্য, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচারকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement