Bangladesh July Charter Protest: হাসিনার হাল হবে তারেকেরও? 'জুলাই সনদ' ইস্যুতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ডাক জামাতের

জুলাই সনদকে ঘিরে ধীরে ধীরে উত্তাপ বাড়ছে বাংলাদেশে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামাত প্রধান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেটা সংসদে সমাধান হয়, হবে। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে। আমরা জনগণের দাবি ছেড়ে দেব না। ছেড়ে দেওয়ার কোনও অধিকার আমাদের নেই। উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।

Advertisement
হাসিনার হাল হবে তারেকেরও? 'জুলাই সনদ' ইস্যুতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ডাক জামাতের'জুলাই সনদ' নিয়ে তারেককে হুঁশিয়ারি জামাতের

জুলাই সনদকে ঘিরে ধীরে ধীরে উত্তাপ বাড়ছে বাংলাদেশে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামাত প্রধান  শফিকুর রহমান।  তিনি বলেন, যেটা সংসদে সমাধান হয়, হবে। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে হবে। আমরা জনগণের দাবি ছেড়ে দেব না। ছেড়ে দেওয়ার কোনও অধিকার আমাদের নেই। উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমরা কনফিডেন্ট-এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশাআল্লাহ।

পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধীদল প্রতিনিধি দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার। এজন্যই রেফারেন্ডাম (গণভোট) হয়েছে। আমরা বলেছি, ৭০ ভাগ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, আমরা সংসদের ভিতরে এসে এটা বদলাতে চাই না। আমরা জনগণের পক্ষে, জনগণের রায়ের পক্ষে। অতএব সংশোধন নয়, সংস্কারের জন্য কমিটি করলে আমরা দেখবো বিবেচনা করবো।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিয়েছি, এটা নতুন করে আর বলার কিছু নেই যে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটির দরকার নেই। এইটা তো একটা রুটিন ওয়ার্ক। এটা বিল আকারে আসবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে, আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবো। পাস হলে পাস হবে, রিজেক্ট হলে রিজেক্ট হবে, এইটার জন্য কোনও কমিটি লাগে না। কমিটির প্রয়োজন সংবিধান সংস্কারের জন্য। সংস্কারের জন্য যদি তারা কোনও প্রস্তাব দেন, তখন আমরা বিবেচনা করবো। অতীতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জনগণের স্বার্থে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের ডিসিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা বগলদাবা বিরোধীদল হবো না এবং আমরা সংসদের ভেতরে এমন কোনও আচরণ করবো না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষুন্ন হয়। জনগণ আমাদের এইখানে (সংসদে) পাঠিয়েছে জনগণের কথা বলার জন্য।

প্রসঙ্গত, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে চাপে রাখতে  দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলের জোট। সংসদে দাবি জানানো, মুলতবি প্রস্তাব দেওয়া ও ওয়াকআউটের পর এখন রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি। আন্দোলনের রূপরেখায় আছে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। পাশাপাশি জনমত গঠনে সভা-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগের মতো কর্মসূচিগুলোও নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জামাতের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এ ছাড়া ১১ দলের জোটের বাইরে দলীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। একই সঙ্গে ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মতামত দেয়। এমনকি বিএনপিও সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই ছিল।  জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। তবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ অনুষ্ঠানে জামাত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ নেননি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সংসদের বাইরে রাজপথে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে বিরোধী দলগুলি।


 

POST A COMMENT
Advertisement