
JF-17 যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনাভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের JF-17 যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য JF-17 যুদ্ধবিমান বিক্রয় এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে ডেইলি স্টার জানিয়েছে যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানরা বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকাকে JF-17 যুদ্ধবিমান বিক্রি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ উন্নত হচ্ছে। ১০ বছরের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হতে চলেছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা, বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ২৯ জানুয়ারি ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করতে চলেছে।

JF-17 যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে বিবিস বাংলা জানিয়েছে, ইসলামাবাদে আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধান জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং তার বাংলাদেশি প্রতিপক্ষ হাসান মাহমুদ খান JF-17 জেট কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। JF-17 চিন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। মঙ্গলবার জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ইসলামাবাদ ঢাকাকে 'সুপার মুশশাক প্রশিক্ষক বিমান দ্রুত সরবরাহের পাশাপাশি একটি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা ইকোসিস্টেমের' আশ্বাস দিয়েছে।
বৈঠকে কী আলোচনা?
পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বৈঠকে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মহাকাশ খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।' বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কার্যকর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং যুদ্ধে তাদের সাফল্য রেকর্ডের প্রশংসা করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান বিমান বাহিনীর পুরনো বিমানগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশs নজরদারির মান উন্নয়নের জন্য সমন্বিত এয়ার ডিফেন্স রাডার সিস্টেমের বিষয়ে সহযোগিতা পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাঠামগুলো পরিদর্শন করে। এর মধ্যে আছে ন্যাশনাল আইএসআর ও ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অপারেশন্স সেন্টার, পাকিস্তান এয়ার ফোর্স সাইবার কমান্ড এবং ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক।
গত মাসে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন
২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সাক্ষাতের পরপরই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাকিস্তানি হাইকমিশনার জানান যে, জানুয়ারিতে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে, পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত এবং চিকিৎসা বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেছে। অক্টোবরের শুরুতেও, পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির (সিজেসিএসসি) প্রধান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন।
চিনের সহায়তায় পাকিস্তান এই জেট বিমান তৈরি করেছে
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, 'বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত।' JF-17 থান্ডার হল একটি হালকা, একক ইঞ্জিন বিশিষ্ট, বহুমুখী যুদ্ধবিমান যা যৌথভাবে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স এবং চিনের চেংডু এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। জেএফ-১৭ জেটটি আকাশে পর্যবেক্ষণ, স্থল আক্রমণ এবং বিমান আটকানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই চুক্তি ভারতের উপর কী প্রভাব ফেলবে?
যদি এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয় এবং বাংলাদেশ JF-17 ক্রয় করে, তাহলে ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভারতের শক্তিশালী বিমান বাহিনী রয়েছে, যারা রাফায়েল, সুখোই-30MKI এবং তেজাসের মতো উন্নত যুদ্ধবিমানে সজ্জিত। ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট এবং প্রযুক্তি উভয়ই পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ভারতের শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে সক্ষম। এই চুক্তি বাংলাদেশ ও পাকস্তান, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে, তবে ভারতের সামরিক শক্তির উপর এর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে, এই উন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ পুরনো মতপার্থক্যকে দূরে রেখে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।