বাংলাদেশে ভোটের আগে সেনার হেফাজতে ফের মৃত্যুবাংলাদেশে হেফাজতে থাকা অবস্থায় আরেকটি মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু বাংলাদেশের চৌডাঙ্গা এলাকায় হেফাজতে থাকাকালীন মারা যাওয়ায় এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে শামসুজ্জামানকে আটক করেছিল। পুলিশের মতে, তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটকের পর জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে মারা যান। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে, তথাপি আটক অবস্থায় একজন নাগরিকের মৃত্যু মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগজনক।’
জীবননগর এলাকার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাবলুর স্ত্রী অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হত্যা করা হয়েছে। জেসমিন নাহার আরও বলেন, সেনাবাহিনী ডবলুকে তার ফার্মেসি থেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। এর আগে কারওয়ান বাজারেও এক তরুণ বিএনপি নেতাকে গুলি করা হয়েছিল। তাছাড়া, আওয়ামী লিগ নেতা এবং বিখ্যাত গায়ক প্রলয় চাকীও সম্প্রতি জেলে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন।
ডাবলু ওষুধের দোকানের মালিক ছিলেন। রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তাঁকে হেফাজতে মারধর করা হয়েছে। পুলিশ বলছে যে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা এবং ডাবলুপ ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে হেফাজতে দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন, হিংসা এবং হেফাজতে মৃত্যুর ধারাবাহিক খবর পাওয়া যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে ‘হত্যার শিকার’ উল্লেখ করে এ ঘটনায় সেনাবাহিনী প্রধানের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে অস্ত্র উদ্ধারের নামে নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্য শামসুজ্জামান ডাবলুকে ধরে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালান। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব।