বাংলাদেশবাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার মহমম্মদ ইউনূসের আমলে রাজনৈতিক হিংসা, গণপিটুনিতে ১৭ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৫ জন। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ কীভাবে হিংসা চলেছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (আরআইএসএস)-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে হত্যার ঘটনা বেড়েছে। অন্যদিকে চরমপন্থীদের জেল থেকে রেহাই দেওয়ার ঘটনা উদ্বেগের বিষয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, মাত্র সতেরো মাসে বাংলাদেশে ৪১৩টি গণ-হিংসার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তবে, আরও একটি মানবাধিকার সংস্থা, অধিকার বলছে যে গণপিটুনির মাসে ১৮১ জন মার গেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, এই গণ-হিংসার ঘটনাগুলির বেশিরভাগটাই পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনা অথবা জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনা। উদাহরণস্বরূপ, হিন্দু যুবক দীপু দাসের ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। যাকে কারখানা থেকে টেনে বের করে এনে, মারধর করা হয়েছিল, তারপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের গত ১৭ মাসে ৪৫ জন বিচারবহির্ভূত আটক অবস্থায় মারা গেছেন। ১২২ জন জেলেই মারা গেছেন। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির রেকর্ড করা তথ্য অনুসারে, এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে যেখানে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাদের উপাসনাস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন মারা গিয়েছিলেন এবং ৭০-এরও বেশি আহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে সংখ্যালঘু হিন্দুদের তাদের জমি দখল করতে বাধ্য করা এবং তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনাও প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৭ মাসে দেশজুড়ে রাজনৈতিক হিংসায় ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ১১,০০০ এরও বেশি আহত হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘটনাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেখানে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সাতশোর বেশই ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বিএনপি প্রাথমিকভাবে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনাগুলিতে ১২১ জন মারা গেছেন। সাত হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন।
এই প্রতিবেদনে এও দেখানো হয়েছে, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে মাত্র দু'মাসের মধ্যে রাজনৈতিক হিংসায় পাঁচজন মারা গেছেন। প্রায় এক হাজার আহত হয়েছেন। অর্থাৎ, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে, রাজনৈতিক সহিংসতার ১৬২টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে হামলা, ভাঙচুর, মারামারি এবং হিংসার ঘটনা। শুধু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালই নয়, বাংলাদেশের অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের মতে, ৯ অগাস্ট, ২০২৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ এর মধ্যে রাজনৈতিক হিংসায় ৩২৮ জন নিহত এবং ৯,০০০ এরও বেশি আহত হয়েছেন।